,
নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : উচ্চতর বিচারব্যবস্থার বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ বিচারব্যবস্থার নিজস্ব ‘ইন-হাউস মেকানিজম’-এর মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা হয় বলে শুক্রবার লোকসভায় জানাল কেন্দ্র সরকার।
লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, সংবিধানে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী অভিযোগগুলি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেখা হয়।
মন্ত্রী তাঁর লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ভারতের সংবিধানে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা সুরক্ষিত। হাইকোর্টের বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ বিচারব্যবস্থা নিজস্ব ‘ইন-হাউস মেকানিজম’-এর মাধ্যমে বিবেচনা করে।
তিনি আরও জানান, ১৯৯৭ সালের ৭ মে সুপ্রিম কোর্ট “বিচারিক জীবনের মূল্যবোধের পুনঃবিবেচনা” এবং “অভ্যন্তরীণ পদ্ধতি বা ইন-হাউস পদ্ধতি” দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে বিচারকদের জন্য আচরণবিধি নির্ধারণ এবং গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার রূপরেখা স্থির করা হয়।
প্রচলিত ‘ইন-হাউস’ পদ্ধতি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ ও বিবেচনার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) রয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণের ক্ষমতা সেই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত।
মন্ত্রী জানান, সেন্ট্রালাইজড পাবলিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (সিপিজিআরএএমএস) বা অন্য যে কোনও মাধ্যমে উচ্চতর বিচারব্যবস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ যথাযথভাবে প্রধান বিচারপতি বা সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে মেঘওয়াল জানান, গত ১০ বছরে প্রধান বিচারপতির দফতরে কর্মরত বিচারপতিদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা ছিল ২০১৬ সালে ৭২৯টি, ২০১৭ সালে ৬৮২টি, ২০১৮ সালে ৭১৭টি, ২০১৯ সালে ১,০৩৭টি, ২০২০ সালে ৫১৮টি, ২০২১ সালে ৬৮৬টি, ২০২২ সালে ১,০১২টি, ২০২৩ সালে ৯৭৭টি, ২০২৪ সালে ১,১৭০টি এবং ২০২৫ সালে ১,১০২টি।
কেন্দ্র সরকার বর্তমানে প্রচলিত ‘ইন-হাউস’ প্রক্রিয়ার বাইরে আলাদা কোনও ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করছে কি না এমন প্রশ্নে সরকার জানায়, এ ধরনের কোনও নতুন প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা নেই। সিপিজিআরএএমএস বা অন্য মাধ্যমে প্রাপ্ত সব অভিযোগই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয় এবং প্রচলিত নিয়ম মেনেই তা নিষ্পত্তি করা হয়।

