বঙ্গের এসআইআর নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে সাত জেলাশাসক-ডিইও-র প্রতি সিইসি-র ক্ষোভ

কলকাতা, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাত জন জেলাশাসক (ডিএম)/জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও)-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন(ইসি)। শুক্রবার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই ঘটনা ঘটে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল, সিইও দফতরের আধিকারিকেরা, সমস্ত জেলার ডিএম/ডিইও, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-রা।

সিইও দফতরের এক সূত্রের দাবি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএম/ডিইও-রা কমিশনের অসন্তোষের মুখে পড়েন। সূত্রের মতে, কোচবিহারের ডিএম/ডিইও খসড়া ভোটার তালিকা সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তির শুনানিতে জমা পড়া পরিচয়পত্রের নথি আপলোডে বিলম্ব হওয়ায় সিইসি-র তিরস্কারের মুখে পড়েন। জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ডিএম/ডিইও-দের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় তাঁদের সতর্ক করা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএম/ডিইও-র কাছে কমিশন জানতে চায়, ভাঙড়ে এক ইআরও-র বিরুদ্ধে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার সঙ্গে মাইক্রো-অবজারভারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএম/ডিইও-কে জনসমক্ষে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয় কমিশন।

সিইও দফতরের সূত্র জানায়, বৈঠকে সমস্ত ডিএম/ডিইও-দের উদ্দেশে সিইসি কড়া সতর্কবার্তা দেন যে ভবিষ্যতে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনেও (এসি আর) তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে, যা কর্মজীবনের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তির শুনানির বর্ধিত সময়সীমা শনিবার শেষ হচ্ছে। শুনানিতে জমা পড়া নথির যাচাই চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Reply