নয়াদিল্লি, ১১ ফেব্রুয়ারি : জাতীয় রাজধানীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় বুধবার দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি পুলিশকে নোটিস জারি করেছে। সংক্ষিপ্ত শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, দিল্লিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ঘটনা নিয়ে বর্তমানে সংবাদমাধ্যমে দুই ধরনের ভিন্ন বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি সরকার এবং ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র কাছেও এই বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের কোনো বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
এর একদিন আগে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়ের বেঞ্চে জরুরি তালিকাভুক্তির আবেদন জানিয়ে পিআইএলটি উত্থাপন করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে রাজধানী থেকে প্রায় ৮০০ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে ওই আবেদনে।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে দিল্লি সরকারের মুখ্যসচিব ও দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে নোটিস জারি করেছে। তাঁদের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ হঠাৎ করে নিখোঁজ শিশুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার খবর খারিজ করে দিয়েছে। “তথ্য বিকৃত করে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর” বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। পুলিশের দাবি, সরকারি তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের ঘটনায় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেনি এবং গত প্রায় এক দশক ধরে পরিসংখ্যান মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ২৩,০০০ থেকে ২৪,০০০-এর মধ্যে রয়েছে, যদিও রাজধানীর জনসংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দিল্লি পুলিশ জানায়, নিখোঁজ শিশুদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করছি। এই ধরনের দাবি খারিজ করার পাশাপাশি তথ্য বিকৃত করে অযথা ভয় ছড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা দিল্লি পুলিশের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিখোঁজ বা অপহৃত শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

