মুম্বই, ১১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় সাসপেন্ডেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এক আধিকারিকের প্রায় ১.০৩ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সংস্থার তরফে জারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ধৃত আধিকারিকের নাম হিতেশ কুমার সিঙ্গলা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর আওতায় তাঁর সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। সংযুক্ত সম্পত্তির মধ্যে এমন কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অর্থও রয়েছে, যেগুলি ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধলব্ধ অর্থ সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার (পিএও) জারি করা হয়।
মুম্বইয়ের সিবিআই অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এসিবি) দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করে। সিঙ্গলা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩১৬(৫) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮–এর ১৩(২) ধারায় (১৩(১)(এ) সহ) মামলা রুজু হয়েছে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আমেদাবাদ জংশন রেলস্টেশন থেকে ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মুম্বইয়ের বিশেষ পিএমএলএ আদালতে প্রসিকিউশন কমপ্লেইন্ট (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি আদালত মামলাটি গ্রহণ করে। বর্তমানে তিনি মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
ইডি জানিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে যে মে ২০২৩ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে সিঙ্গলা অনুমতি ছাড়াই একাধিক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে বন্ধ করে দেন। এর মধ্যে ছিল টার্ম ডিপোজিট (টিডি), পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ), সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (এসসিএসএস), সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট।
এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে সরানো অর্থ তাঁর স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় (এসবিআই) থাকা ব্যক্তিগত সেভিংস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রায় ২৩০টি গ্রাহক অ্যাকাউন্টকে টার্গেট করা হয়েছিল, যার অধিকাংশই প্রবীণ নাগরিক, অপ্রাপ্তবয়স্ক, মৃত অ্যাকাউন্টধারী অথবা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা অ্যাকাউন্ট যাতে সহজে ধরা না পড়া যায়।
মোট প্রায় ১৬.৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। ইডির দাবি, এই অর্থ পরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, রিয়েল-মানি গেমিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ইডি।

