জলন্ধর, ৯ ফেব্রুয়ারি: সহপাঠীকে গুলি করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় পাঞ্জাবের একটি আইন কলেজে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রী সন্দীপ কৌর (২০) ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। অভিযুক্ত ছাত্র প্রিন্স রাজ (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকালে পাঞ্জাবের তরণ তারান জেলার উসমা গ্রামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাই ভাগো ল’ কলেজে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রিন্স রাজ মল্লিয়ান গ্রামের বাসিন্দা এবং কলেজের প্রথম বর্ষের আইন বিভাগের ছাত্র। নিহত সন্দীপ কৌর নওশেরা পান্নুয়ান গ্রামের বাসিন্দা।
কলেজের শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ঘটনার সম্পূর্ণ দৃশ্য। ফুটেজে দেখা যায়, ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই সন্দীপ কৌর প্রথমে প্রিন্স রাজের কাছ থেকে সরে গিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনের দিকে অন্য শিক্ষার্থীদের একটি দলের কাছে চলে যান। কিছুক্ষণ পর প্রিন্স রাজ তাঁকে অনুসরণ করে সামনে যান এবং দু’জনের মধ্যে কথোপকথন হয়।
এরপর তৃতীয় এক সহপাঠী এসে প্রিন্স রাজের সঙ্গে শেষ বেঞ্চের দিকে যান এবং সন্দীপ কৌরকেও ডাকেন। কিছুক্ষণ পর সন্দীপ কৌর সেখানে গিয়ে বসেন। সন্দীপ কৌর ও ওই সহপাঠী শেষ বেঞ্চে বসেন, আর প্রিন্স রাজ তাঁদের সামনের বেঞ্চে বসে কথাবার্তা চালিয়ে যান।
কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রিন্স রাজ উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যাগ থেকে একটি বস্তু বের করেন, যা পরে আগ্নেয়াস্ত্র বলে জানা যায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি সন্দীপ কৌরকে গুলি করেন এবং এরপর নিজেকেও গুলি করেন। পাশেই থাকা সহপাঠীটি আতঙ্কিত হয়ে পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। গুলির শব্দ শুনে অন্য ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণিকক্ষে ছুটে এলেও, মেঝেতে দু’জনকে পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। সেখানেই ভিডিওটি শেষ হয়।
ঘটনার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তরণ তারানের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) সুরেন্দ্র লাম্বা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে “বন্ধুত্বের সম্পর্ক” থেকেই মূল সূত্র মিলছে। তিনি জানান, দু’জনের সম্পর্কের প্রকৃতি এবং গুলির ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা জানার জন্য উভয় শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি দিনের ক্লাস শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ঘটে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর নিহত সন্দীপ কৌরের মা হরজিন্দর কৌর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তিনি একজন বিধবা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। হরজিন্দর কৌর বলেন, আমি কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের পড়াশোনা খরচ জোগাড় করছি, যাতে তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যত দিতে পারি। আজ সকালে আমার মেয়ে স্বাভাবিকভাবেই কলেজে গিয়েছিল। এখানে প্রশ্ন হলো, একজন শিক্ষার্থী কীভাবে একটি পিস্তল ক্লাসরুমে নিয়ে গেল? কলেজে কি আদৌ কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে?

