নয়াদিল্লি, ৯ ফেব্রুয়ারি : অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে যুক্ত কথিত একটি “শুটিং ভিডিও”কে ঘিরে বিতর্ক এবার পৌঁছাল সুপ্রিম কোর্টে। এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন ১২ জন সমাজকর্মী।
আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন দিল্লি লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজিব জং, সমাজকর্মী রূপ রেখা ভার্মা, সংখ্যালঘু অধিকারকর্মী জন দয়াল-সহ একাধিক বিশিষ্ট নাগরিক। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, উচ্চ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিদের কিছু মন্তব্য ও বক্তব্য সংবিধানিক মূল্যবোধ, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং জনসমক্ষে শালীনতার পরিপন্থী।
আবেদনে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধির বিতর্কিত মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে ওঠা মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে যুক্ত কিছু মন্তব্য, এবং উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বলে দাবি করা “কথা মোল্লা” মন্তব্যের প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতীশ রানে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের জনসমক্ষে করা কিছু বক্তব্যের উল্লেখ করে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে উত্তেজনা ও বিভাজন বাড়াতে পারে।
পিটিশনকারীদের বক্তব্য, এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানিক নৈতিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে। সেই কারণে, উচ্চ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্ট দিশানির্দেশ প্রণয়নের জন্য শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
মামলাটি শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষিতে, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং জনজীবনে জবাবদিহি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত কোনও বিস্তৃত নীতিমালা নির্ধারণ করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলের।

