কুয়ালালামপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর দুই নেতা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সেরি পারদানায় সীমিত পরিসর এবং প্রতিনিধিদল-স্তরের বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে দুই দেশের নেতারা ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারত–মালয়েশিয়া সমগ্র কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন। তাঁরা ভারত ও মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে গভীর পারস্পরিক যোগাযোগের কথা স্মরণ করেন, যা এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
নেতৃদ্বয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পরিকাঠামো, স্টার্ট-আপ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয়ুর্বেদ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মতো অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল কাউন্সিলের মাধ্যমে ডিজিটাল সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং ইউপিআই ও পে-নেটের মধ্যে চুক্তিকে স্বাগত জানান, যা ফিনটেক সহযোগিতা জোরদার করবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সংসদীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আদান-প্রদানের মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে সংযোগ আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ও মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়া, এবং আইআইটি মাদ্রাজ ও মালয়েশিয়ার অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর একাডেমির মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় ভারতের প্রথম কনস্যুলেট খোলা হলে বাণিজ্যিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন, যার মধ্যে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং ক্রমবর্ধমান ভারত–আসিয়ান অংশীদারিত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী মোদি এআইটিআইজিএ পর্যালোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০২৫ সালে আসিয়ানের সফল সভাপতিত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অভিনন্দন জানান। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের জন্য শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলা ও লালকেল্লা বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনার পর ডিজিটাল পেমেন্ট, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ, অডিও-ভিজুয়াল সহ-প্রযোজনা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা সহযোগিতা এবং ভারতীয় শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বিনিময় হয়। এছাড়াও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স-এ যোগদানের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রান্তিকে ৭ ফেব্রুয়ারি দশম ভারত–মালয়েশিয়া সিইও ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের ফলাফল সংক্রান্ত নথি উভয় পক্ষ গ্রহণ করে। এদিন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।

