শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামরিক, পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ সবক্ষেত্রে উন্নয়নে এবারের বাজেট গুরুত্ব রাখা হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৭ ফেব্রুয়ারি: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামরিক, পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ সবক্ষেত্রে উন্নয়নে এবারের বাজেট গুরুত্ব রাখা হয়েছে। এবারের বাজেট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। আর আমাদের দায়িত্ব অনেক। তাই প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে আমাদের।  আজ আগরতলায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট যুব সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

সম্মেলনে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। একমাত্র মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে পরপর ৯ বার দেশের বাজেট পেশ করেছেন তিনি। আমরা টিভির পর্দায় এর সাক্ষী হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিন্তাভাবনা বিকশিত ভারত ২০৪৭কে সামনে রেখে এই বাজেটের প্রতিফলন হয়েছে। বাজেটে আলাদা আলাদা করে সমস্ত বিষয় রাখা হয়েছে এবার। মাঘ পূর্ণিমার মতো একটা সুন্দর দিনে এবারের বাজেট পেশ হয়েছে। এবারের বাজেট নিয়ে প্রায় ৮০ বারের মতো কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে। আমরা জানি আগে রেলওয়ে বাজেট পেশ করা হতো। তারপর সাধারণ বাজেট পেশ হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর সেগুলোকে মিলিয়ে দিয়েছেন।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাজেটের মূল উদ্দেশ্য দেশের আয় ব্যয় এবং কি কি সেক্টরকে সামনে রেখে রূপরেখা হবে সেটা তুলে ধরা। দেশের উন্নয়নের খাতে বিভিন্ন সেক্টরগুলিকে নির্ধারণ করা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাত ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাজেটে আর্থিক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সামরিক খাতে এবারের বাজেটে প্রায় ১৫% বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে আরো শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুরে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় মাত্র ২৬ মিনিটের মধ্যে ৯/১০টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনে সামরিক ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাবে ভারত।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চারটি শ্রেণীর (জাত) কথা বলছেন – যুবা, কৃষক, গরীব ও মহিলা। আর এই চার শ্রেণীর উন্নয়ন হলে সমাজে জাতপাতের প্রয়োজন হবে না। এই চারটি শ্রেণীর কথা ভেবেই এবারের বাজেটে বিভিন্ন সংস্থান রাখা হয়েছে। যুবাদের কর্মসংস্থানের দিকে লক্ষ্য রেখেই বাজেটে ৩.৫ কোটি চাকরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমে রয়েছে সমাজের প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস। সব শ্রেণীর মানুষের উন্নয়ন দরকার। প্রতিটি ঘরে আর্থিক উন্নয়ন দরকার। সমাজের সকল স্তরের মানুষের উন্নয়ন দরকার। মানুষের কল্যাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনার প্রতিফলন হয়েছে এই বাজেটে। কৃষকদের সার্বিক কল্যাণে এই বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান সেটার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ১৭টি জীবনদায়ী ঔষধের মূল্য অনেক কম করা হয়েছে। বিরল রোগের ঔষধেও মূল্য হ্রাসের বিষয় রাখা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানের উন্নয়নের জন্যও বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মানব সম্পদের উপর বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের কর্মদক্ষতার উপর জোর দিয়েছেন। তাদের উপর ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রী গর্ববোধ করেন এবং আমরাও গর্ববোধ করি। গতানুগতিক চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে আর্থিক উন্নয়নে আরো গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের। তাই আমাদের দায়িত্ব অনেক। কেউ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে হবে। অন্যথায় দেশ ও রাজ্যকে বিকশিত করতে পারবো না আমরা।

এদিন এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, প্রদেশ যুব মোর্চার সভাপতি বিধায়ক সুশান্ত দেব সহ যুব মোর্চার বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।

Leave a Reply