নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৭ ফেব্রুয়ারি: উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরের বটরশি এলাকায় অবস্থিত এফসিআই (ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া) গোডাউনে শনিবার ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও নিন্দনীয় ঘটনা। লরি পরিমাপকে কেন্দ্র করে গোডাউনের ইনচার্জের বিরুদ্ধে এক লরি চালককে প্রকাশ্যে ‘চোর’ বলে অপমান এবং পরবর্তীতে বেধড়ক মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, চালান সংক্রান্ত পরিমাপ চলাকালীন হঠাৎ করেই গোডাউনের ইনচার্জ লরি চালক রাজিবকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন। এই অপমানজনক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইনচার্জ ও কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড একযোগে চালকের উপর হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপস্থিত অন্যান্য লরি চালকদের দাবি, সিকিউরিটি গার্ড প্রথমে চালকের গলা চেপে ধরে তাঁকে আটকে রাখেন এবং সেই সুযোগে ইনচার্জ বেধড়ক মারধর শুরু করেন। এই হামলায় গুরুতর আহত হন লরি চালক রাজিব। মারধরের ফলে তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। আহত চালকের লরির নম্বর টিআর০২_এ_১৮৯০।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের সময় এফসিআই গোডাউনের ইনচার্জের মাথাতেও আঘাত লাগে বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ধর্মনগর দমকল দপ্তরের সহায়তায় উভয় আহতকে দ্রুত ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ধর্মনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোডাউনে কর্মরত অন্যান্য লরি চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, গোডাউনের ইনচার্জ ও সিকিউরিটি গার্ড দীর্ঘদিন ধরেই চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন। চালকদের দাবি, তাঁদের কথামতো না চললে লরি ক্যানসেল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
অনেকের মতে, এই ঘটনা নিছক একটি হাতাহাতির বিষয় নয়; বরং এটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শ্রমজীবী লরি চালকদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বহিঃপ্রকাশ। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চালকেরা।
এফসিআই-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সংস্থার গোডাউনে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তবে প্রশাসনের ভূমিকা ও নজরদারি নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

