একমাসের মাথায় নাগাল্যান্ড থেকে উদ্ধার রাজ্যের নিখোঁজ তরুণ ব্লগারের মৃতদেহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ ফেব্রুয়ারি: ত্রিপুরার তরুণ ব্লগার  প্রণব দাসের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে নাগাল্যান্ডে। গত একমাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন সে। কোহিমা জেলার ডজুকো ভ্যালি থেকে নিখোঁজ প্রণবের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজ্যে। জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি ডজুকো ভ্যালি ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন প্রণব দাস নামে ওই পর্যটক। অবশেষে ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ ডজুকো ভ্যালি এলাকায় তার দেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

মৃত প্রণব দাস পশ্চিম জেলার শ্রীনগর জেলার বাসিন্দা। তিনি ৪ জানুয়ারি ডজুকো ভ্যালি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এবং ওই দিনই ভিসওয়েমা গ্রামের ডজুকো টিকিট কাউন্টারে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পাওয়ায় ১৩ জানুয়ারি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর থেকেই ডজুকো ভ্যালি ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।

মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য একটি যৌথ দল গঠন করা হয়। এই দলে ছিলেন সাউদার্ন আংগামি ইয়ুথ অর্গানাইজেশন(এসএওয়াইও), সাউদার্ন ডজুকো গাইড কাউন্সিল এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা। এর মধ্যে ছিল খুজামা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ভিসওয়েমা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, জাখামা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, কিগওয়েমা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ও ফেসামা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন। প্রত্যেক সংগঠন থেকেই স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

এছাড়াও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ছিলেন সাউথ পুলিশ স্টেশন ও খুজামা পুলিশ স্টেশনের পুলিশ কর্মীরা। ডজুকো কেয়ারটেকারদের কাছ থেকে বিকেল ৪টা নাগাদ মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়ার পর দলটি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এবং রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে সেখানে পৌঁছায়।

জানা গেছে, মৃতদেহটি নদীর ধারে, জলস্রোত থেকে কয়েক ফুট দূরে, হেলিপ্যাড এলাকার নিচে পাওয়া যায়। তবে দেহটি জলের মধ্যে ছিল না। তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে দেহটি স্বাভাবিকভাবেই সংরক্ষিত ছিল। পচনের কোনও চিহ্ন বা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়নি। দেহটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে গেছিল ঠান্ডায়।

রাত প্রায় সাড়ে ৩টা নাগাদ মৃতদেহটি ডজুকো বেস ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। অল্প বিশ্রাম ও জলখাবারের পর ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ ফের যাত্রা শুরু হয়। সকাল ৬টার দিকে দলটি ভিসওয়েমা ভিউ পয়েন্টে পৌঁছায় এবং সকাল ৭টা নাগাদ ভিসওয়েমা পার্কিং এলাকায় এসে পৌঁছায়।
সাউদার্ন আংগামি ইয়ুথ অর্গানাইজেশন এবং ভিসওয়েমা উইমেন অর্গানাইজেশনের চেষ্টায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও পরবর্তী তদন্তের জন্য মৃতদেহটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘুরতে গিয়ে এই তরুণের মৃত্যুতে গোটা রাজ্যব্যাপী শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাকে দেখার জন্যে প্রহর গুনছেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিভাবে তার মৃত্যু হল, তা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে প্রশাসনিক তরফে।

Leave a Reply