শিক্ষা যেন বোঝা না হয়, শুধু নম্বর নয়, জীবনের উন্নতিতেই জোর দাও: পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ৬ ফেব্রুয়ারি: শিক্ষা যেন বোঝা না হয়। শুধু নম্বর নয়, জীবনের উন্নতিতেই জোর দাও। ‘পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬’-এর নবম সংস্করণে পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তাদের এই সুপরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি পড়ুয়াদের পরামর্শ দিয়েছেন, দেশে ইন্টারনেট ডেটা সস্তা বলে অকারণে সময় নষ্ট না করে জীবন ও শিক্ষাগত দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার জন্য।

‘পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬’-এর নবম সংস্করণে পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কখনওই বোঝা হয়ে ওঠা উচিত নয়। অর্ধ-মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে জীবনে সাফল্য আসে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা যেন বোঝা বলে মনে না হয়। এতে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। টুকরো টুকরো পড়াশোনায় সাফল্য নিশ্চিত হয় না। শুধু নম্বরের দিকে তাকিয়ে না থেকে জীবনে তুমি কোথায় পৌঁছেছ, সেটার দিকে নজর দাও। বাবা-মা, শিক্ষক বা বন্ধুদের কথা শোনো, কিন্তু নিজের উপর বিশ্বাস রাখো এবং সব পরামর্শ বিবেচনায় রেখেই নিজের পথ অনুসরণ করো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন হওয়া উচিত, যা হাতের নাগালে থাকবে, কিন্তু সহজে পাওয়া যাবে না। আগে মনকে নিয়ন্ত্রণ করো, তারপর মনকে যুক্ত করো পড়াশোনার সঙ্গে। তাহলে ছাত্রজীবনে সাফল্য আসবেই।

ইন্টারনেট ও গেমিং প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, তুমি গেম খেলতে আগ্রহী হতে পারো, কিন্তু শুধু সময় কাটানোর জন্য বা ডেটা সস্তা বলে তাতে ডুবে যেয়ো না। মজা করার জন্যও নয়। যারা টাকার জন্য গেমিং বা অনলাইন জুয়ায় জড়ায়, তারা ধ্বংসের পথেই যায়। দেশে জুয়া উৎসাহিত করা যায় না। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমি আইন করেছি। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে গেমিং নিজেই একটি দক্ষতা, যেখানে দ্রুততা ও সতর্কতার প্রয়োজন হয় এবং তা আত্মোন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের কাজ করার নিজস্ব ধরন বা প্যাটার্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আমি অতীতের দিকে তাকাই না, সবসময় ভবিষ্যতের দিকে তাকাই। অনেক সময় শিক্ষকরা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মতো বিষয়ই পড়ান। কিন্তু ভালো শিক্ষক সার্বিক উন্নয়নের উপর জোর দেন। জীবন শুধু পরীক্ষা নয়। শিক্ষা হল আমাদের উন্নতির একটি মাধ্যম মাত্র।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি, তবুও মানুষ আমাকে নানা ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু প্রত্যেকেরই নিজস্ব প্যাটার্ন থাকে। কেউ সকালে পড়ে ভালো ফল করে, কেউ রাতে। যেটা তোমার জন্য উপযুক্ত, সেটাতেই বিশ্বাস রাখো। তবে পরামর্শ শোনো, আর যদি তা উপকারে আসে, তবেই জীবনে গ্রহণ করো।

‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠান নিয়েও প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এর রূপে কিছু পরিবর্তন এনেছেন, তবে মূল আদর্শ বা কাঠামো ছাড়েননি। তিনি বলেন, যখন আমি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ শুরু করেছিলাম, তখন একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ছিল। ধীরে ধীরে তাতে পরিবর্তন এনেছি। এবার বিভিন্ন রাজ্যেও অনুষ্ঠান করেছি। প্যাটার্ন বদলেছে, কিন্তু মূল ভিত্তি অটুট রয়েছে।

Leave a Reply