চণ্ডীগড়, ৬ ফেব্রুয়ারি : পাঞ্জাবের জলন্ধরের মডেল টাউন এলাকায় শুক্রবার সকালে এক গুরুদ্বারের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হলেন আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা লাকি ওবেরয়। পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভগবন্ত মান নেতৃত্বাধীন আপ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে নেমেছে বিরোধী দলগুলি।
জলন্ধর পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক জানান, শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওবেরয়কে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানেই তিনি মারা যান।
৩৮ বছর বয়সি লাকি ওবেরয় জলন্ধরভিত্তিক আপ নেতা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নিজের গাড়িতে করে গুরুদ্বারে এসেছিলেন এবং প্রণাম সেরে মাহিন্দ্রা থার রক্স গাড়িতে করে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় দু’চাকার গাড়িতে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালায়।
জলন্ধরের এসিপি পরমিন্দর সিং জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীরা আগেই ওবেরয়ের গতিবিধির উপর নজরদারি চালিয়ে থাকতে পারে। হামলায় ওবেরয়ের গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, পাশাপাশি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি গাড়ির কাচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরপরই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ ওবেরয়কে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকের কথায়, তিনি তখন অচেতন ছিলেন এবং রক্তচাপ মাপা যাচ্ছিল না। তাঁর উপর আট থেকে নয় রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। একটি গুলি বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায়। সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি বলে জানান তিনি।
এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলি মান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙনের অভিযোগ তোলে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া এক্স-এ লেখেন, জলন্ধরে গুরুদ্বারের বাইরে দিনের আলোয় আপ নেতাকে খুনের ঘটনা ভয়াবহ বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। শাসক দলের নেতারাই যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ কী?
শিরোমণি অকালি দল সভাপতি সুখবীর সিং বাদলও মান সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, আম আদমি পার্টির ‘জিরো ফিয়ার’ সরকারের অধীনে পাঞ্জাব রক্তাক্ত হচ্ছে। নিজের সরকারের মধ্যেই আপ নেতারা নিরাপদ নন। তিনি দাবি করেন, জানুয়ারি মাসেই প্রায় ২৫টি খুন হয়েছে। অকালি দল নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া বলেন, এটাই এখন পাঞ্জাবের নতুন স্বাভাবিক অবস্থা, যেখানে ইচ্ছে খুন করা যায়। আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং বলেন, আপ শাসনে পাঞ্জাবে কেউই নিরাপদ নয়। রাজ্যকে ‘জঙ্গলরাজ’-এর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘও এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ভয়াবহ সতর্কবার্তা’ বলে উল্লেখ করে বলেন, শাসক দলের নেতারাই যদি প্রকাশ্য স্থানে খুন হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি অভিযোগ করেন, আপ সরকার জননিরাপত্তার বদলে প্রচারেই বেশি ব্যস্ত।

