৬ ফেব্রুয়ারি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ বিশেষ পর্ব দেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নয়াদিল্লি, ৩ ফেব্রুয়ারি : পরীক্ষার মরশুম ঘনিয়ে আসতেই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আবারও সরাসরি কথোপকথনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার তিনি দেশবাসীকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশেষ ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ পর্ব দেখার আহ্বান জানান।

এবারের ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ‘এক্সাম ওয়ারিয়র্স’-দের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন। এই ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনগুলি অনুষ্ঠিত হয় গুজরাটের দেবমোগরা, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর, ছত্তিশগড়ের রায়পুর, অসমের গুয়াহাটি এবং দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে।

প্রধানমন্ত্রী এই অভিজ্ঞতাকে “তাজা ও অনুপ্রেরণাদায়ক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ ও খোলামেলা মনোভাব তাঁকে মুগ্ধ করেছে। পরীক্ষাকে চাপমুক্তভাবে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার নানা বাস্তব পরামর্শ শেয়ার করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় মোদি লেখেন, “পরীক্ষা আসন্ন, তাই #পরীক্ষা পে চর্চা আবার ফিরে এসেছে! এবার দেবমোগরা, কোয়েম্বাটুর, রায়পুর, গুয়াহাটি এবং দিল্লির ৭, এলকেএম-এ #এক্সামওয়ারিয়র-দের সঙ্গে চর্চা হয়েছে। সবসময়ের মতোই আমার তরুণ বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা সতেজ অভিজ্ঞতা। ৬ ফেব্রুয়ারির পর্বটি অবশ্যই দেখুন।”

অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বোর্ড ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় কীভাবে শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও চাপমুক্ত থেকে অংশ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা ও ব্যক্তিগত বিকাশ সংক্রান্ত বৃহত্তর বিষয়ও উঠে আসে আলোচনায়।

এ বছর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র নবম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এই উদ্যোগের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ধীরে ধীরে এটি সর্বভারতীয় সংলাপে পরিণত হয়েছে, যেখানে দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্যোগে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ এখন এক জাতীয় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজকে একসঙ্গে এনে এমন পরিবেশ তৈরি করাই এর লক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি শিশুর স্বতন্ত্র সত্তা স্বীকৃতি পায় এবং ভয় বা চাপ ছাড়াই বিকশিত হতে পারে।

প্রথাগতভাবে দিল্লিতে একক ভেন্যুতে অনুষ্ঠান হলেও, এ বছরের আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ এবং ভারতের কেন্দ্র—এই পাঁচ দিককে প্রতীকীভাবে এক মঞ্চে যুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পিপিসি ২০২৬–এ অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানও এর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিচ্ছে। কর্মসূচির জন্য ৪.৫ কোটিরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া পিপিসি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন আরও ২.২৬ কোটি মানুষ। সব মিলিয়ে এ বছরের মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৬.৭৬ কোটিরও বেশি, যা এই উদ্যোগের ক্রমবর্ধমান জাতীয় প্রভাবকে স্পষ্ট করে।

Leave a Reply