ভোটের আগে তালিকা বিতর্ক, ৫৮ লাখ নাম বাদ নিয়েও চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা

নয়াদিল্লি/কলকাতা, ৩ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লাখ নাম বাদ পড়েছে—এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। তবে এর কোনও প্রভাব রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা ভোটে পড়বে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উল্টে তৃণমূল কংগ্রেস আগের চেয়েও বেশি আসনে জিতবে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি সফরে গিয়েছেন মমতা। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মাঝপথেই বৈঠক বয়কট করেন তিনি।
মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারদের উপস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এসআইআর–এর পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল কী হবে।
জবাবে মমতা বলেন, “আমি এখন রণনীতি বলব না। দলীয় আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের অনেক সাংসদ, বিধায়ক, ব্লক প্রেসিডেন্ট, বুথ প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। আমি একা সিদ্ধান্ত নিই না। আমরা গণতান্ত্রিক দল। আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।”
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী, আদালতে ন্যায়বিচার পাব। যদি না পাই, তা হলে অন্য পথ ভাবতে হবে।”
ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা স্পষ্ট বলেন, “বিজেপি বাংলায় আসবে না। মানুষ বিজেপিকে ঘৃণা করে।” তাঁর দাবি, এমনকি বিজেপির ভোটারেরাও তৃণমূলকে ভোট দেবে। উদাহরণ টেনে বলেন,
“ধরুন, আপনার বেতন থেকে ২০ টাকা কেটে নেওয়া হল। আপনি টিউশন করে সেই টাকা তুলে নিতে পারেন। বিজেপির লোকজনই আমাদের ভোট দিয়ে দেবে।”
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে ভোটের ফল প্রভাবিত হতে পারে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ইস্যুতে জনসমর্থন তাদের দিকেই থাকবে।
এসআইআর–পরবর্তী পরিস্থিতি ও আদালতের রায়—দুই দিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

Leave a Reply