নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জানুয়ারি: সবকিছুর উর্ধে গিয়ে রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা এবং মানুষের সেবা করা। সরকার রাজ্যের অন্যান্য পশ্চাৎপদ জাতিগোষ্ঠী সহ সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক ব্যক্তি পর্যন্ত সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। রাজ্যের অন্যান্য পশ্চাৎপদ জাতিগোষ্ঠী সহ প্রত্যেকটি দুর্বল অংশের মানুষের যত বেশি দ্রুত আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানো যাবে রাজ্যও ততো দ্রুত উন্নয়নের দিশায় এগিয়ে যাবে। রাজ্য বর্তমানে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়ণের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে অন্যতম রাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভকরেছে। আজ প্রজ্ঞাভবনে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণির কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যভিত্তিক বি. আর, আম্বেদকর স্বর্ণপদক পুরস্কার, বিদ্যাসাগর সামাজিক-সাংস্কৃতিক পুরস্কার ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর পশ্চাৎপদ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিগণ বিদ্যাসাগর এবং ড. বি. আর আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর দেশের পশ্চাৎপদ শ্রেণি ও অন্যান্য দুর্বল অংশের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে জোর দিয়েছিলেন। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেটেও তা পরিলক্ষিত হয়। সেই দিশায় রাজ্য সরকারও অন্যান্য পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য প্রান্তিক প্রতিটি শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক মান উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বিকশিত ভারত গঠন করা। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, রাজ্যে পশ্চাৎপদ শ্রেণির মানুষের জনসংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষ ৪ হাজার এবং পরিবার রয়েছে ২ লক্ষ ২৪ হাজারের বেশি। রাজ্য সরকার পশ্চাৎপদ শ্রেণিভুক্ত মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে জোর দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ভালো অবস্থানে রয়েছে। গত ২০ বছরের মধ্যে রাজ্যে অপরাধ প্রবণতার হার বর্তমানে সর্বনিম্ন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এটা একটা ভালো রেকর্ড। রাজ্যের জনজাতি যুবকদের একটা সময় ভুল পথে চালিত করে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার শান্তি সম্প্রীতির বাতাবরণের মধ্য দিয়ে প্রতিটি জাতি ও জনজাতি অংশের মানুষকে পাশে নিয়ে এক নতুন ত্রিপুরা গঠনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, রাজ্যের অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণির মানুষদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। রাজ্যের পশ্চাৎপদ শ্রেণিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তিদান, তাদের জন্য ছাত্রাবাস নির্মাণ ও অন্যান্য নানা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি সমবায় উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান এম. কে. নাথ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা নির্মল অধিকারী। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থান অর্জনকারী পশ্চাৎপদ শ্রেণিভুক্ত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে ড. বি. আর, আম্বেদকর স্বর্ণপদক পুরস্কার তুলে দেন। সমাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সজল আচার্য, সুকুমার চন্দ্র নাথ ভৌমিক এবং কাজল চন্দ্র নাথ-এর হাতে বিদ্যাসাগর সামাজিক সাংস্কৃতিক পুরস্কার তুলে দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ জন পশ্চাৎপদ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রছাত্রীর হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তা হিসেবে অতিথিগণ চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরা হয়। মুখ্যমন্ত্রী পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগর-সামাজিক সাংস্কৃতিক পুরস্কার প্রাপকদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহাকে সম্মান জ্ঞাপন করা হয়।

