নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বাজেটে করছাড় ও শুল্ক নীতিতে পরিবর্তনের ফলে কিছু পণ্যের দাম কমবে, আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে খরচ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তা ও করদাতাদের স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বেশ কয়েকটি আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে ছাড় প্রত্যাহার বা কর বাড়ানো হয়েছে।
বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী, বিমান যন্ত্রাংশ, মাইক্রোওয়েভের যন্ত্রাংশ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং কিছু আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে এগুলির দাম কমতে পারে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইভি ব্যাটারি, সৌর প্যানেল এবং বিমান যন্ত্রাংশ সস্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের ওষুধ-সহ মোট ১৭টি ওষুধের দাম কমবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ক্রীড়া সরঞ্জামও তুলনামূলকভাবে সস্তা হবে।
দেশে তৈরি স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের দাম কমতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু আমদানি সামগ্রীর দামও শুল্ক কমার ফলে হ্রাস পেতে পারে।
এছাড়াও, চামড়া শিল্পের রপ্তানি বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু কাঁচামালের ওপর শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শুল্কের চাপের মুখে থাকা চামড়া রপ্তানিকারকদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিলাসবহুল ঘড়ি ও আমদানি করা মদ আরও ব্যয়বহুল হবে। সিগারেট, বিড়ি, পানমসলা ও গুটখার মতো ‘সিন গুডস’-এর ওপর কর বাড়ানোয় সেগুলির দামও বাড়বে।
কফি রোস্টিং, ব্রুইং ও ভেন্ডিং মেশিনের ওপর থাকা ছাড় তুলে নেওয়ায় এই যন্ত্রগুলির দাম বাড়তে পারে।
অ্যামোনিয়াম ফসফেট ও অ্যামোনিয়াম নাইট্রো-ফসফেটের আমদানিতে শুল্ক ছাড় প্রত্যাহার করায় সার উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। ফলে সারও আরও ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া, আমদানি করা টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শব্দ ধারণের বিভিন্ন যন্ত্রের দামও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইভি ব্যাটারি, স্মার্টফোন ও সৌর প্যানেলের মতো পণ্যে স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে বিলাসপণ্য, মদ, তামাকজাত দ্রব্য ও কিছু শিল্পপণ্যে খরচ বাড়বে। সরকারের লক্ষ্য, এই নীতির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতা আরও জোরদার করা।

