বাজেট ২০২৬ : ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম ও মিজোরামে বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়নে উদ্যোগ, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে নজর কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি : বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম ও মিজোরামে বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়নে উদ্যোগ নেবে কেন্দ্র। আজ বাজেটে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

লোকসভায় টানা নবমবারের মতো কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই নজিরবিহীন সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরেন।

বাজেট ২০২৬-এ অর্থমন্ত্রী অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়নের ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে পর্যটন বিকাশ ঘটানো এবং বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা।

এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মন্দির ও মঠ সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণ করা হবে, যাতে সেগুলি তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক পর্যটনকে উৎসাহিত করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক আনন্দ রঙ্গনাথন একসময় মন্তব্য করেছিলেন, বোধগয়াকে ‘প্রাচ্যের ভ্যাটিকান’ হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। বোধগয়াই সেই পবিত্র স্থান, যেখানে গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেছিলেন। এখানেই অবস্থিত ঐতিহাসিক বোধিবৃক্ষ ও মহাবোধি মন্দির কমপ্লেক্স, যা বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৩ কোটি ৫০ লক্ষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রয়েছেন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চিনের মতো দেশে বড় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই দেশগুলি থেকে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রী ও পর্যটক বোধগয়ায় আসতে আগ্রহী, যদি পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, প্রচার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বোধগয়ার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম। প্রতিবছর মাত্র প্রায় আড়াই লক্ষ বিদেশি পর্যটক এখানে আসেন, যা সম্ভাবনার তুলনায় অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উপযুক্ত বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মত তাঁদের।

এই প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, চিকিৎসা, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে ঘোষিত প্রধান উদ্যোগগুলি হল, জাতীয় গন্তব্য ডিজিটাল নলেজ গ্রিড গঠন, যার মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির ডিজিটাল নথিভুক্তিকরণ করা হবে।

লোথাল, সারনাথ, ধোলাভিরা ও হস্তিনাপুর-সহ ১৫টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উন্নয়ন করে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে পর্যটন বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাণিজ্য ও শিল্প বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট কোস্ট করিডর গঠনের প্রস্তাব। বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিক্যাল ট্যুরিজম হাব গড়ে তোলার ঘোষণা, যার মাধ্যমে ভারতকে চিকিৎসা পর্যটনের বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

Leave a Reply