নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি : ক্যানসার ও বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের বড় স্বস্তি দিল কেন্দ্র সরকার। রবিবার সংসদে ২০২৬ সালের নবম কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন, ক্যানসারের ১৭টি ওষুধ এবং বিরল রোগের ৭টি ওষুধে কাস্টমস শুল্ক সম্পূর্ণ মকুব করা হবে। পাশাপাশি উত্তর ভারতে একটি দ্বিতীয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস (নিমহান্স) স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চিকিৎসার খরচ কমাতে ১৭টি ওষুধ ও ওষুধজাত পণ্যের উপর বেসিক কাস্টমস ডিউটি সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষ ওষুধ, খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যক্তিগত আমদানির ক্ষেত্রে আরও ৭টি বিরল রোগকে শুল্কছাড়ের আওতায় আনা হবে। এতে বিশেষায়িত থেরাপির প্রয়োজন থাকা রোগীরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। সীতারামন জানান, উত্তর ভারতে ‘নিমহান্স-২’ গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত নিমহান্সই দেশের একমাত্র শীর্ষ মানসিক স্বাস্থ্য ও নিউরোসায়েন্স গবেষণা কেন্দ্র।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিমহান্স মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, গবেষণা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে উত্তর ভারতের মানুষের জন্য উন্নত মানের মানসিক চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও রাঁচি ও তেজপুরের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, উত্তর ভারতে পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাব থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে জেলা হাসপাতালগুলির ক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। জরুরি ও ট্রমা কেয়ার সেন্টার স্থাপন করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় মানসিক ও দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসা পরিষেবা জোরদার করা হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের (দিব্যাঙ্গজন) স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার সুযোগ দিতে দুটি নতুন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে দিব্যাঙ্গজন কৌশল যোজনা’ ও ‘দিব্যাঙ্গ সাহারা যোজনা।
দিব্যাঙ্গজন কৌশল যোজনার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীর উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। অন্যদিকে দিব্যাঙ্গ সাহারা যোজনার অধীনে এএলআইএমসিও-কে সহায়ক যন্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্তিকরণে সহায়তা করা হবে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী দিব্যাশা কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করা এবং আধুনিক খুচরো বিপণন কেন্দ্রের আদলে ‘অ্যাসিস্টিভ টেকনোলজি মার্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

