এডিসির ২৮টি আসনেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত জিএমপি’র: রাধাচরণ দেববর্মা

আগরতলা, ৩১ জানুয়ারি: আগামী এডিসি নির্বাচনে ২৮টি আসনেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ (জিএমপি)। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানান সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা।

তিনি জানান, গত ২৯ জানুয়ারি জিএমপির ২৩তম কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনে প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতি দলীয় আন্দোলনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। ওই সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সহ বিশিষ্ট নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

রাধাচরণ দেববর্মা আরও জানান, দলের ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিতে ৬ জন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং ১৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এডিসি নির্বাচনে আমরা ইঞ্চি ইঞ্চি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিজেপি ও তিপরা মথার নেতৃত্বাধীন এডিসিকে দুর্নীতি ও লুটপাটের কেন্দ্র বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং বাম আমলে গড়ে ওঠা সম্পদ লিজ ও বন্ধক দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এডিসি’র সম্পদ টাটা কোম্পানির কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে এবং কীভাবে ডুম্বুর জলাশয় বিশাখাপত্তনমের একটি সংস্থার হাতে চলে গেল।

রাধাচরণ দেববর্মা আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী এডিসি প্রশাসনের কাজকর্ম পর্যালোচনা না করায় সাধারণ মানুষ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এডিসি’র মধুর ভাণ্ডার লুট হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের অর্থ বিলির পরও অনুন্নয়নের দায় মথার উপর চাপানো হচ্ছে।

এদিন জিএমপি’র সভাপতি নরেশ জমাতিয়া বিজেপি-শাসিত সরকারকে নতুন ফ্যাসিস্ট সরকার আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিজেপিই প্রধান শত্রু হলেও তিপরা মথাও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাঁর অভিযোগ, তিপরা মথা সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিচ্ছে এবং বিজেপি-আরএসএস আদিবাসী সমাজের উপর তাদের আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply