নয়াদিল্লি/অহমদাবাদ, ৩১ জানুয়ারী: মার্কিন সংস্থার পাঠানো আইনি সমন গ্রহণে সম্মত হয়েছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানি। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁরা এই সমন গ্রহণে রাজি হয়েছেন। সমন পাঠিয়েছে মার্কিন সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)।
এসইসি এবং নিউ ইয়র্কের বিচারবিভাগ একযোগে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযোগ, আদানি গ্রিন লিমিটেডের পদাধিকারী হিসেবে গৌতম আদানি ও সাগর আদানি গোপনে ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিয়ে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি আদায় করেছিলেন। এতে আদানি গ্রিন এবং আজ়ুরে পাওয়ার নামে একটি সৌরশক্তি সংস্থা উপকৃত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি এসইসি-র ওয়েবসাইটেও নথিভুক্ত রয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলা আদালতে এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছে। মার্কিন আদালতে মামলা হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আদানি গ্রিন আমেরিকান লগ্নিকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, আজ়ুরে পাওয়ারের শেয়ার নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে। আজ়ুরে পাওয়ারের কর্তা সিরিল কাবানেস-এর বিরুদ্ধেও এসইসি অভিযোগ গঠন করেছে।
এসইসি ভারতে সমন পাঠাতে হেগ কনভেনশন-এর আওতায় আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা প্রক্রিয়ার সাহায্য নিয়েছে। ভারত এই ব্যবস্থার অন্যতম অংশীদার হওয়ায়, বিদেশি আদালতের আইনি সহায়তার অনুরোধ কার্যত বিবেচনা করতে বাধ্য। সেই সূত্রেই গত বছর কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক আহমেদাবাদের একটি আদালতকে সমন পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সূত্রের দাবি, প্রথমে কিছু বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত গৌতম ও সাগর আদানি সমন গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। পিটিআই জানিয়েছে, তাঁদের মার্কিন আইনজীবীরাই সমন গ্রহণ করবেন। এর ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।
আইনি সূত্রে জানা গেছে, বিচারকের অনুমোদনের পর অভিযুক্তরা ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগ খারিজের আবেদন বা নিজেদের পক্ষে নথি জমা দিতে পারবেন। এরপর এসইসি ৬০ দিনের মধ্যে তাদের প্রমাণ ও বক্তব্য পেশ করবে। চূড়ান্ত অভিযোগের জবাব দিতে গৌতম ও সাগর আদানিকে আরও ৪৫ দিন সময় দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

