ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি : বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনের দিন কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, সে বিষয়ে সাত দফা নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে এবং ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মাত্রাও তত বাড়ছে। বহু ক্ষেত্রেই এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও খুনের অভিযোগ ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
এই আবহে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, নির্বাচনের সময় সহিংস বা উগ্রপন্থী হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে দুষ্কৃতীদের নজর থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভও হঠাৎ করে অশান্তিতে রূপ নিতে পারে— এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে মার্কিন নাগরিকদের যেকোনও ধরনের জনসমাবেশ, সভা বা মিছিল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মোটরবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সীমিত পরিষেবা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের বড় জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকতে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার জন্য মোবাইল ফোন সব সময় চার্জে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অশান্তি বা আকস্মিক অবরোধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগেভাগে বিকল্প যাতায়াত পরিকল্পনাও তৈরি করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
বাংলাদেশে নির্বাচনী হিংসা নতুন নয়। গত পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু এবং ৩,৬৫৭ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ভোট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর আরও কয়েকটি অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা কতটা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। অন্তর্বতী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে গত দেড় বছরে সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইউনূস সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অধিকাংশ ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবুও সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছে, তারা নির্বাচনে কোনও পক্ষ নেবে না।

