রায়পুর/বিজাপুর, ২৯ জানুয়ারি: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলার দক্ষিণ অংশে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে তীব্র এনকাউন্টার হয়েছে। এই সংঘর্ষে দুই মাওবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, জেলা রিজার্ভ গার্ডের দল দক্ষিণ বস্তারে বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাওবাদীদের উপস্থিতি সনাক্ত করে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সকাল ৭টায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে আগুনের বিনিময় শুরু হয়, যা বস্তারের অন্যতম প্রভাবিত জেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী-মাওবাদী অভিযান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে দুই মাওবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একে-৪৭ রাইফেল, ৯ মিমি পিস্তল এবং অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এটি নির্দেশ করছে যে মাওবাদীরা অত্যন্ত সশস্ত্র ও সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত ছিল।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এলাকায় তল্লাশি এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। দলগুলো বাকি বিদ্রোহীদের খুঁজে বের করা, অতিরিক্ত প্রমাণ উদ্ধার এবং সম্ভাব্য হুমকি নিরসনের জন্য বনাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কারণে সংঘর্ষের সঠিক স্থান এবং বাহিনী সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। বিস্তারিত তথ্য অভিযান শেষ হওয়ার পর জানানো হবে।
অভিযান শুরুর আগেই বিজাপুরে নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদীদের বড় ধরনের হামলার চেষ্টা রুখে দিয়েছিল। দুটি বড় শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। জেলা রিজার্ভ গার্ড, ইলমিডি থানা, চত্তিশগড় সশস্ত্র বাহিনী ৯ম ব্যাটালিয়ন এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল যৌথভাবে ইলমিডি-লঙ্কাপল্লি এলাকার বিশেষ অভিযান চালিয়েছে।
এই অভিযানে রাস্তার মাঝখানে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের দুটি আইইডি সনাক্ত করা হয় এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সঠিক প্রোটোকল অনুসরণ করে তা ধ্বংস করে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজাপুরে বামপন্থী চরমপন্থী কার্যক্রম এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। সরকারি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্রমবর্ধমান বিরোধী-উত্তেজনা অভিযান সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা দূরবর্তী এলাকা থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসে অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে, যাতে আইইডি উদ্ধার, মাওবাদী কার্যক্রম নিরসন এবং অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

