৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে কর্তব্য পথে শুরু হবে জমকালো কুচকাওয়াজ, ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতি

নয়া দিল্লি, ২৪ জানুয়ারি: আগামী ২৬ জানুয়ারি, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানী দিল্লির কর্তব্য পথে জমকালো কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস দেশের ঐতিহ্য, সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতির একত্রিত চেতনা ও অগ্রগতির উদযাপন করবে।
এ বছর বিশেষভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই বিশিষ্ট নেতা—ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন—প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সকালে ৯:৩০ মিনিটে রাষ্ট্রপতির জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর উদযাপনের মাধ্যমে কুচকাওয়াজের সূচনা হবে। এরপর সকাল ১০:৩০ মিনিটে মূল কুচকাওয়াজ শুরু হবে, যা প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা স্থায়ী হবে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ৬,০০০-এরও বেশি সামরিক কর্মী অংশ নেবেন। বিশেষভাবে, ভৈরব ব্যাটালিয়ন এবং শক্তিবান রেজিমেন্ট প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া, মাওবাদী দমন অভিযানের সাফল্য তুলে ধরতে ভারতের সামরিক বাহিনী “অপারেশন সিঁদুর” ট্যাবলো প্রদর্শন করবে, যা দেশের যৌথ সামরিক ক্ষমতা এবং সাফল্যকে তুলে ধরবে।
এই বছর ভারতের সেনাবাহিনী একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়ে আসবে, যেখানে সিঙ্ক্রোনাইজড ম্যানুভার প্রদর্শনের মাধ্যমে ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ড্রোন এবং আর্মর্ড প্ল্যাটফর্মগুলির সংমিশ্রণ দেখা যাবে। এছাড়া, ভারতীয় বিমান বাহিনী সিঁদুর অপারেশনের সময় ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য প্রদর্শন করবে, যা পাকিস্তানের একটি এয়ারবেস ধ্বংস করে।
কাচাবেঙ্গালের শৈলী ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে, কুচকাওয়াজে কাইট, জানস্কার ঘোড়া এবং ব্যাকট্রিয়ান উটও প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করবে।
এছাড়া, ২৬ জানুয়ারি উপলক্ষে দিল্লি মেট্রো তার সমস্ত লাইনে সকাল ৩টা থেকে পরিষেবা চালু করবে, যাতে জনগণ কর্তব্য পথে সহজে পৌঁছাতে পারে এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে।
প্রজাতন্ত্র দিবস মূলত ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন হিসেবে পালিত হয়, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং নাগরিকদের সমান অধিকারের প্রতীক। ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় জনগণের সংকল্পের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এই দিনটিতেই ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়েছিল এবং ভারত নিজের সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে শুরু করে।
প্রচলিত রীতি অনুসারে, প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কোনো একটি দেশের রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। ১৯৫০ সালে প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি ছিলেন। ১৯৫৫ সালে রাজপথে প্রথমবার প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন শুরু হয়, এবং পরে এটি কর্তব্য পথ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ভারতের সামরিক শক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং দেশপ্রেমের চেতনা বিশ্বদরবারে প্রদর্শিত হয়।

Leave a Reply