ঢাকা, ২২ জানুয়ারি: আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আক্রমণাত্মক প্রচারে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা ও গ্রামীণ এলাকাকে বিশেষভাবে নিশানা করে বড় জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে দলটি। দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার ভিত্তিতে জামায়াত ৩৫০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৬৩টিকে ‘উইনেবল’ বা জয়ের সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই আসনগুলিতেই তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও আর্থিক সংস্থান কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা কম, এমন প্রায় ১৩০টি আসন থেকে জামায়াত তাদের ক্যাডার ও কর্মীদের সরিয়ে এনে সম্ভাবনাময় কেন্দ্রগুলিতে মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও তার আশপাশের অন্তত ২০টি আসনে প্রচার এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে ভালো ফলের ব্যাপারে দলটি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বলে সূত্রের দাবি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের নির্বাচনে জামায়াত এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অতীতে একসঙ্গে সরকার গঠন করলেও এবার দুই দলের রাজনৈতিক পথ আলাদা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে।
সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার অপসারণের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপর জামায়াতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়েই নির্বাচনী বছরে বিপুল অর্থব্যয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। জয়ের সম্ভাবনাময় কেন্দ্রগুলিতে প্রায় ১০০ কোটি বাংলাদেশি টাকা পর্যন্ত খরচ করা হচ্ছে। এমনকি যেসব আসনে সহজেই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেও কোনও ঝুঁকি না নিতে ব্যাপক অর্থ ঢালা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রচারের কৌশল হিসেবেও নতুন পথ বেছে নিয়েছে জামায়াত। দরিদ্র ভোটারদের লক্ষ্য করে মোবাইল নম্বর ও পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তথ্যভিত্তিক প্রচার চালানো হচ্ছে। শহরাঞ্চলে দলের মহিলা শাখা এবং ছাত্র সংগঠন—বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা (বিআইসিএস) ও ইসলামী ছাত্র শিবির (আইসিএস)—বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালাচ্ছে। দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের প্রভাব থাকায় বিপুল সংখ্যক কর্মী এই প্রচারে যুক্ত রয়েছে।
দলীয় অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে জামায়াতের দাবি, তারা জাতীয় সংসদের অন্তত ২০৫টি আসনে জয় পেতে পারে। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আপাতত প্রকাশ্যে কট্টর ধর্মীয় এজেন্ডা সামনে না আনলেও ক্ষমতায় এলে জামায়াত তাদের মৌলবাদী মতাদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে।
ভারতের নিরাপত্তা মহলের আশঙ্কা, জামায়াত ক্ষমতায় এলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পাকিস্তানঘেঁষা নীতি এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ভারতের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

