বিজেপির সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন নীতিন নবীন

নয়াদিল্লি, ২০ জানুয়ারি: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় সভাপতি হিসেবে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নীতিন নবীন। তিনি বিদায়ী সভাপতি জে পি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন। দলের সদর দপ্তর, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঞ্চে উঠে ৪৫ বছর বয়সি নীতিন নবীনকে সংবর্ধনা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গडकরি, বিদায়ী সভাপতি জে পি নাড্ডা-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিপুল সংখ্যক প্রবীণ নেতাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর নীতিন নবীনকে বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি (ন্যাশনাল ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। সোমবার মনোনয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই তিনি সর্বসম্মতভাবে জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।

তার প্রার্থিতার সমর্থনে মোট ৩৭ সেট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও রাজনাথ সিং-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা তার নাম প্রস্তাব করেন। দলের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি পদপ্রার্থীর জন্য অন্তত ১৫ বছরের দলীয় সদস্যপদ এবং একটি রাজ্য থেকে কমপক্ষে ২০ জন ইলেক্টোরাল কলেজ সদস্যের প্রস্তাব আবশ্যক।

বিজেপির জাতীয় ও রাজ্য পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমেই এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

নীতিন নবীন বিহার বিধানসভার পাঁচবারের বিধায়ক। তিনি বিহার সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জন্য তিনি দলের অন্দরমহলে বিশেষভাবে পরিচিত।

১৯৮০ সালের ২৩ মে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে জন্মগ্রহণ করেন নীতিন নবীন। তিনি প্রয়াত নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পুত্র, যিনি বিজেপির প্রবীণ নেতা এবং পাটনা পশ্চিম কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক ছিলেন।

অল্প বয়সেই রাজনীতিতে প্রবেশ করা নীতিন নবীন ২০০৬ সালে পাটনা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হন। ২০১০ সাল থেকে তিনি ব্যাংকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন এবং ২০১০, ২০১৫, ২০২০ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেন।

বিহার সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকাকালীন তিনি সড়ক নির্মাণ, নগরোন্নয়ন ও আবাসন এবং আইন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি দলীয় সংগঠনে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। সিকিম ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল।

নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আশাবাদী।

Leave a Reply