আগরতলা, ৯ জানুয়ারি: ভারতীয় বিকাশ গ্রামীণ রোজগার মিশন গ্যারান্টি (ভিবি-জি রাম জি) আইন গ্রামীণ কর্মসংস্থান শক্তিশালী করা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই নতুন আইন আগের কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পগুলির সীমাবদ্ধতা দূর করে জবাবদিহিতা আরও কঠোর করবে। আজ প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা।
ভিবি-জি রাম জি বিল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কর্মসুচি হাতে নিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিভিন্নভাবে এর প্রচার করা হচ্ছে। এদিন রাজ্যের তরফেও এই বিল সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরিতে সংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সংসদে বিলটি ইতিমধ্যেই পাস হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতিও পেয়েছে। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা অযথা বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই আইনের বিধান ও সুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করেন। পরে সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদনের পর ২১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে আইনটি কার্যকর হয়।
দেশে কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা উদ্যোগের ইতিহাস তুলে ধরে ডা. সাহা বলেন, বিভিন্ন সময়ে ভূমিহীন শ্রমিকদের জন্য কর্মসূচি, ১৯৯৩ সালের জওহর রোজগার যোজনাসহ নানা প্রকল্প চালু হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই পরে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন প্রণীত হয়, যদিও তাতে বেশ কিছু ত্রুটি ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছেন গ্রামীণ কর্মসংস্থানসহ সব ক্ষেত্রেই সংস্কার প্রয়োজন।
সেই জন্যেই নতুন এই সংস্কার করা হয়েছে। নতুন এই আইনের উপকারিতাও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন আইনে কাজের দিন বাড়িয়ে ১২৫ করা হয়েছে, গ্রামীণ উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থায়ী ও টেকসই সম্পদ সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজ না পেলে বেকার ভাতা এবং মজুরি দিতে বিলম্ব হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
আইনে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিকেন্দ্রীকৃত পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কাজের চারটি প্রধান ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে—জল সংরক্ষণ (চেক ড্যাম, পুকুর সংস্কার), গ্রামীণ পরিকাঠামো (রাস্তা, পঞ্চায়েত ভবন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা), দুগ্ধ ও সহায়ক পরিকাঠামোর মাধ্যমে জীবিকা সৃষ্টি এবং বন ও সমবায় খাতের উন্নয়নমূলক কাজ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির জন্য কেন্দ্র সরকার ৯৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করেছে, যা টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি আগের কাজের সঙ্গে এর তুলনা করে বলেন, আগে কাজ হতো কিন্তু কোথায় কাজ হতো কি কাজ হতো তার কোন তথ্য প্রমাণ ছিল না। কিন্তু সরকারের নতুন আইনের মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে সবকিছুর উল্লেখ থাকবে। সময়ের মধ্যে যদি কাজ করানো না যায় তাহলে বেকার ভাতা নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিকদের জন্য। মজুরি প্রদানে বিলম্ব হলে বিলম্বের প্রত্যেক দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।

