আগরতলা, ৯ জানুয়ারি: শিক্ষা অন্তহীন। প্রকৃত শিক্ষাই পারে জ্ঞানের আলোকে অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করতে। তাই যে যত বেশি পড়াশোনা করবে সে তত বেশি সমৃদ্ধ হবে এবং সমাজে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আজ আগরতলার বাপুজী বিদ্যামন্দির হাইস্কুলের নতুন ভবনের ভূমিপূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। উল্লেখ্য বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা। রাজ্যের পূর্ত দপ্তর এই বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু করা বাপুজী বিদ্যামন্দির হাইস্কুল রাজ্যের একটি অন্যতম প্রাচীন বিদ্যালয়। ২০২৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ের ফলাফল ভাল হয়। এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী সহ অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা বিদ্যালয় সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রদান করা হয়। এই ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স যুগে পড়াশোনার পদ্ধতি ও বিষয়সমূহ পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গতানুগতিক শিক্ষাদানের উর্ধে গিয়ে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলি বিদ্যালয়ের পাঠদানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুপ্রেরণামূলক পাঠদান শিক্ষার্থীদের মনে গভীর রেখাপাত তৈরি করে। যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে সুগম করে এবং সমাজে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাচীনকালে ভারতবর্ষ ছিল সমস্ত পৃথিবীর কাছে জ্ঞান লাভের অন্যতম গন্তব্য। কিন্তু বিদেশী শক্তির প্রভাবে তা বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের প্রাচীন গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাকেন্দ্রগুলির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা জারি রয়েছে। দেশে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ চালু সেই পথকেই বাস্তবায়িত করছে। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য, জ্ঞান চর্চার উত্তরাধিকার এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এই শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যেও নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী ভাষণে উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত নিপুন ত্রিপুরা, বিদ্যাসেতু মডিউল, মিশন মুকুল, নিপুন কর্ণার, বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয়, মুখ্যমন্ত্রী মেধা পুরস্কার, সহর্ষ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনায় ১৪০ জন ছাত্রীকে স্কুটি প্রদান, ৮৪টি বিদ্যালয়কে পিএম-শ্রী স্কুলে রূপান্তরিত করা, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ১২টি বিদ্যালয়কে হাইস্কুলে এবং ৮টি ৮টি বিদ্যালয়কে উচ্চমাধ্যমিকে উন্নীত করা, ১ হাজার ৩৮৪টি বিদ্যালয়ে আইসিটি প্রকল্প চালু, ৪৩৫টিতে বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ১,২১০টিতে স্মার্ট ক্লাস রুম, ৩৬৭টিতে টিংকারিং ল্যাব চালু করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের ছেলেমেয়েদের বর্তমানে রাজ্যেই উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, এনআইটি, জাতীয় ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ সহ প্রচুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এইগুলিকে ভিত্তি করেই আগামী দিনে রাজ্যে শিক্ষার হাব গড়ে উঠবে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রাজ্যে একটি হেলথ ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র বিধায়ক দীপক মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় মধ্যশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলার পুর নিগমের শহর দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ারপার্সন অভিজিৎ মৌলিক, মেয়র পারিষদ বাপী দাস, বিশিষ্ট সমাজসেবী অসীম ভট্টাচার্য এবং শ্যামল কুমার দেব। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান তাপস ভট্টাচার্য।

