ঢাকা, ৬ জানুয়ারি : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের সিলসিলা যেন থামার নাম নেই। যশোর ও নরসিংদীতে দুই হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক হিন্দু বিধবা মহিলাকে গণধর্ষণ ও পৈশাচিক নির্যাতনের খবর সামনে এল। অভিযুক্তরা কেবল ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, ওই মহিলাকে গাছে বেঁধে তাঁর চুল কেটে নেওয়া হয়েছে এবং সেই অত্যাচারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই মহিলার বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় এসেছিলেন। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে এবং বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে। বাধা দিলে আত্মীয়দের মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এরপর অন্য একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ওই মহিলাকে অভিযুক্তরা পালা করে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতা মহিলার আর্তনাদ থামাতে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এমনকি তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে এসে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে নিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হয়।
বর্তমানে ওই মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর বুকে, গোপনাঙ্গে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত ও সিগারেটের পোড়া দাগ রয়েছে। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের ভাইয়ের কাছ থেকে দেড় বছর আগে তিনি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কিনেছিলেন। তারপর থেকেই এক অভিযুক্তের কুনজর ছিল তাঁর ওপর এবং সে বারবার কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। টাকা ও জমি হাতানোর উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধেই একজনকে গ্রেফতার করেছে। কালীগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ধরার জন্য চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত সোমবারই যশোরে হিন্দু সাংবাদিক তথা ব্যবসায়ী রাণাপ্রতাপ বৈরাগীকে এবং নরসিংদীতে মণি চক্রবর্তী নামক এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ ওঠে। একের পর এক এই ধরণের ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।

