ভারতীয় রেলওয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৮টি শহরে যাত্রা শুরুকারী ট্রেনের ধারণ ক্ষমতা দ্বিগুণ করার ঘোষণা

নয়া দিল্লি, ২৭ ডিসেম্বর : ভারতীয় রেলওয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৮টি প্রধান শহরে যাত্রা শুরুকারী ট্রেনের ধারণ ক্ষমতা দ্বিগুণ করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় কমানো, এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা মেটানো। এর পাশাপাশি, সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের রেল অবকাঠামো আধুনিকীকরণের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এবং দ্রুত উন্নয়নশীল শহর ও উপশহর অঞ্চলে নিরাপদ ও সুষম যাতায়াত নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় রেলওয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৮টি প্রধান শহরে যাত্রা শুরুকারী ট্রেনের ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ কমিয়ে সময়মতো ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, সেবার নির্ভরযোগ্যতা উন্নত করা, এবং যাত্রীদের জন্য আরো আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করা। এছাড়া, এই উদ্যোগটি রেলভিত্তিক যাতায়াতের দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির সহায়তা করবে, যাতে ২০৩০ সালের পরেও বেড়ে যাওয়া যাত্রী চাহিদা মোকাবেলা করা যায়।

এই পরিকল্পনার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোতে নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, পার্কিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্টাবলিং লাইন ও পিট লাইন সম্প্রসারণ, শান্টিং এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার উন্নয়ন, এবং বড় শহরের আশেপাশে নতুন টার্মিনাল স্টেশন চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পদক্ষেপ ট্রেন চলাচলকে আরো সুষমভাবে বিতরণ করতে সহায়তা করবে এবং পুরনো স্টেশনগুলোর ওপর চাপ কমাবে।

এই উদ্যোগটি যাত্রীদের চাপ কমাতে এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনাগুলি সিঙ্গ্যালিং এবং মাল্টি-ট্র্যাকিংয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে করা হবে। পুরো পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, যাতে শীঘ্রই যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এই উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদী সংযোগ, দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থন করবে, যা দেশের রেল সেবাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু, পাটনা, ভোপাল এবং পুরীসহ ৪৮টি প্রধান শহরে ট্রেনের যাত্রা শুরু ক্ষমতা দ্বিগুণ করা হবে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি ধাপে ধাপে ট্রাফিকের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান সতীশ কুমার সব অঞ্চলের জোনাল ম্যানেজারদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাদের ট্রেন পরিচালনার ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, উল্লিখিত পরিকল্পনায় শহরের আশেপাশে নতুন টার্মিনাল তৈরির জন্যও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি শহরতলি এবং অ-শহরতলি উভয় ট্রাফিকের জন্যই প্রযোজ্য হবে, যাতে দুটি বিভাগের আলাদা প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ হয়।