উন্নাও ধর্ষণ মামলায় কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনের প্রতিবাদে দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে বিক্ষোভ, নির্যাতিতার মায়ের দাবি দোষীর ফাঁসি হোক

নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর : উন্নাও ধর্ষণ মামলায় বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ হয়। আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন এবং জামিনের আদেশের বিরোধিতা করেন।

দিল্লি হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উন্নাও ধর্ষণ মামলার নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নির্যাতিতা বলেন, আজ আদালতে যা হয়েছে, তাতে আমি ভীষণভাবে মর্মাহত। তিনি আরও জানান, সেঙ্গারকে জামিন দেওয়ার শর্ত জানার পর তিনি নিজেকে চরমভাবে অসুরক্ষিত মনে করছেন।

এক সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার মা জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ওর জামিন বাতিল হওয়া উচিত। আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব। হাই কোর্টের উপর আমাদের আর ভরসা নেই। সুপ্রিম কোর্টেও যদি বিচার না পাই, তবে অন্য দেশে যাব। আমার স্বামীর হত্যার জন্য যে ব্যক্তি দোষী, তাকে অবিলম্বে ফাঁসি দেওয়া উচিত।

সংবাদসংস্থার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের দ্রুত প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে সরে না গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

বিক্ষোভে উপস্থিত নারী অধিকার কর্মী যোগিতা ভায়ানা বলেন, সারা দেশের নারীরা গভীরভাবে আহত যে একজন ধর্ষকের সাজা স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি এই আদালতেই ঘটেছে। তাই যে জায়গায় অবিচার হয়েছে, সেখান থেকেই আমরা ন্যায়বিচার চাইব।

আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, যখন ঘোষণা করা হয়েছে যে কুলদীপ সেঙ্গার ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ করেছে, তখন কোন ভিত্তিতে তাকে জামিন দেওয়া হলো? যদি তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সে বাইরে কেন? আমরা চাই ধর্ষককে ফের কারাগারে পাঠানো হোক, যাতে নারীরা নিরাপদ বোধ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় কুলদীপ সেঙ্গারকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত করে জানায়, তিনি ইতিমধ্যেই পকসো আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় কারাবাস করেছেন।

আদালতের নির্দেশে সেঙ্গারকে নির্যাতিতার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, তাতে পরিবারের উদ্বেগ কাটেনি। নির্যাতিতা জানান, অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে খুব প্রভাবশালী। নিজে হাত নোংরা না করে অন্যদের দিয়ে কাজ করায়। ২০১৯ সালে যে গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার দুই আত্মীয় ও আমার আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছিল, সেটাও ওর লোকেরাই করেছিল। এখন সে বাইরে থাকলে আমরা সবাই বিপদে।

বর্তমানে ২৪ বছর বয়সি নির্যাতিতা দিল্লির বাসিন্দা। সেঙ্গারকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং সর্বক্ষণ পাঁচ থেকে ১১ জন সিআরপিএফ জওয়ান তাঁর সঙ্গে থাকছেন। তবে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, মার্চ মাস পর্যন্ত তাঁর ও তাঁর তিন সন্তানের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তা পরে তুলে নেওয়া হয়েছে।