চুরাইবাড়ি, ১৩ ডিসেম্বর :গত মাসের ২৪ নভেম্বর চুরাইবাড়ি থানাধীন নদিয়াপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এল। গুরুতর আহত বিজয়া সিনহা (২৮)-র জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রথমে মদন গোপাল সিনহা (৫৭) এবং পরে তাপস সিনহা (৩৮)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। সেই সূত্র ধরেই গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ননীগোপাল সিংহ (৪৩)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ননীগোপাল সিংহ দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি প্রভাতী এসএইচজি গ্রুপের লোনের টাকা তুলতে গ্রুপের এক কেশিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে কালাছড়া গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলেন। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজে ঘটনার সময় ব্যাংকে ননীগোপালের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ায় আপাতত তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ননীগোপাল সিংহ সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, উক্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনও রকম যোগ নেই এবং লোন সংক্রান্ত কাজে ব্যাংকে থাকার সম্পূর্ণ ভিডিও প্রমাণ ব্যাংকের গোপন ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি, এই নৃশংস ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডে তিনি ও তাঁর পরিবার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। নিহত আট বছরের শিশু অমৃত সিনহার ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও তোলেন তারা।
অন্যদিকে, চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সিসি টিভি ফুটেজ অনুযায়ী ননীগোপাল সিংহ উক্ত ঘটনায় আপাতত জড়িত নন বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তবে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও জোরদার তদন্ত এখনও চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও একাধিক রহস্য উদঘাটিত হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।

