কৈলাসহর, ৯ ডিসেম্বর: রাজ্যের মন্ত্রী ও চন্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক টিংকু রায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কংগ্রেস নেতা চন্দ্রশেখর সিনহা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে। অভিযোগ জমা পড়ার পর পুরো কৈলাসহর জুড়ে রাজনৈতিক পারদ দ্রুত চড়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কৈলাসহরের বিধায়ক বিরজিত সিনহার নেতৃত্বে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস সভাপতি মো. বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা ও ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী নর সিংহ দাস, কংগ্রেস নেতা চন্দ্রশেখর সিনহা, রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কৈলাসহর থানায় গিয়ে ওসি তাপস মালাকারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরবর্তী সময়ে অভিযোগপত্রের রিসিভ কপি হাতে নিয়ে কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন দলীয় নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী নর সিংহ দাস জানান,
অভিযোগকারী চন্দ্রশেখর সিনহা যে অভিযোগ জমা দিয়েছেন, তাতে দাবি করা হয়েছে— মন্ত্রী টিংকু রায় ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কদমতলা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় এফিডেভিটে উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি ২০০৪ সালে মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র থেকে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ। একই তথ্য তিনি ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চন্ডীপুর কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও এফিডেভিটে উল্লেখ করেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও শিক্ষাগত সার্টিফিকেট “জাল” এবং “ভুয়ো” বলে তাদের দাবি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, অন্য একটি মামলায় সিবিআই তদন্তেও ওই বোর্ডকে জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন দাবিও করেছে কংগ্রেস। তাছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রী নমিনেশনের সময় এফিডেভিটে উল্লেখ করেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। কিন্তু কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিম আগরতলা থানায় তাঁর নামে একটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে।ওই মামলার নম্বর ও বিস্তারিত অভিযোগপত্রে যুক্ত করেছেন চন্দ্রশেখর সিনহা।
আইনজীবী নরসিংহ দাস দাবি করেন, “তথ্য গোপন রাখা এবং ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি জমা দেওয়া গুরুতর অপরাধ।”
অন্যদিকে, মামলাকারী চন্দ্রশেখর সিনহা কৈলাসহরে কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিরোধী শিবিরের কৌশল অনুযায়ী এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রীকে কেন্দ্র করে এভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ায় কৈলাসহরের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপে রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

