আগরতলা, ৩ ডিসেম্বর: কৈলাসহর শহরের আইন-শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সরব হলেন খোদ আদালতের কর্মীরা। আজ সকাল প্রায় দশটার দিকে আদালত চত্বরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আদালতেরই এক কর্মচারী। বর্তমানে তিনি ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শহরে একের পর এক চুরি, বেপরোয়া গাড়িচালনা এবং দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলেও কৈলাসহর থানার পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ আদালতের কর্মীদের। তাঁদের দাবি, আদালত চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ট্রাফিক পোস্ট না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
আদালত চত্বরের চারপাশেই রয়েছে মহকুমাশাসকের অফিস, দুইটি সরকারি স্কুল, একটি বেসরকারি স্কুল, টাউন হল, নির্বাচন দপ্তর, শিশু পার্কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকেই এই রাস্তায় পথচারী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। স্থায়ী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ওই এলাকায় নিত্যদিনই তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বুধবার সকালের ঘটনাটি ছিল তেমনই একটি উদাহরণ। আদালতের এক কর্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, শ্রীরামপুর এলাকা থেকে বাজাজ ডিসকোভার মোটরবাইক চালিয়ে আদালতে আসছিলেন কর্মচারী শুসেন্দ্র দাস। আদালতের কাছে টাউন হলের সামনে পৌঁছতেই হঠাৎ একটি হাইস্পিড অটো দ্রুতগতিতে এসে তাঁর বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে তিনি রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনার পর অটো চালক ঘটনাস্থল থেকে লুকিয়ে যায়।
পরে আদালতের কর্মীরা ছুটে এসে গুরুতর আহত শুসেন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর কৈলাসহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত টিআর০৬এ২১২৬ নম্বরের অটো এবং টিআর০২বি৭৮৯৮ নম্বরের মোটরবাইক জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর অটো চালক নিজেই পুলিশের সামনে আসে এবং তাকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কৈলাসহর আদালতের এক কর্মী বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থায়ী ট্রাফিক পয়েন্ট না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশ প্রশাসন শুধু দর্শকের ভূমিকায় আছে। আমরা চাই অবিলম্বে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি করা হোক।

