নয়াদিল্লি/টোকিও, ২১ অক্টোবর : জাপানের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হল মঙ্গলবার, যখন সানে তাকাইচি দেশটির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন। এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “সানে তাকাইচি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমি ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করতে আপনার সঙ্গে কাজ করতে উদ্গ্রীব। আমাদের সম্পর্ক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও তার বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সোমবার জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্ন—উভয় কক্ষেই তাকাইচি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। উচ্চ কক্ষে তিনি ১২৫টি ভোট পান, যা দরকারি সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে মাত্র এক বেশি ছিল। নীচের কক্ষে তিনি ২৩৭ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয় শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং জাপানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত, কারণ এই প্রথম কোনও নারী এই সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
সানে তাকাইচির রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৩ সালে, যখন তিনি একজন স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে জাপানের নিম্ন কক্ষে নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে তিনি লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দেন। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অধীনে প্রথমবার মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে এলডিপির নীতি গবেষণা পরিষদের প্রথম মহিলা সভাপতি হন। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
তাকাইচি সম্প্রতি এলডিপির নেতা নির্বাচিত হন ১৮৫ ভোট পেয়ে, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শিনজিরো পান ১৫৬ ভোট। প্রথম রাউন্ডে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পুনঃভোটে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়। এখন তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার মেয়াদের বাকি অংশ—সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত—সম্পন্ন করবেন।
জাপান বর্তমানে একাধিক সংকটের মুখোমুখি—অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি ও ইয়েনের দরপতন এর মধ্যে অন্যতম। এই পরিস্থিতিতে তাকাইচির নেতৃত্বে এলডিপির জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বড় হয়ে উঠেছে। দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ব্যর্থতা এবং জনসমর্থনের ঘাটতি কাটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।
তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর অনেকেই মনে করছেন, জাপানের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি এক নতুন দৃষ্টান্ত। প্রাক্তন বিচারমন্ত্রী মিডোরি মাতসুশিমা বলেন, “এই জয় বহু তরুণী ও অরাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” ভারত ও জাপানের সম্পর্কের ভবিষ্যতের দিক থেকে এই নতুন অধ্যায়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

