নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর – কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বৃহস্পতিবার জানান, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম -এর সিইও মারি অকিনক্লস এবং বিপি ইন্ডিয়ার প্রধান কার্তিক দুবের সঙ্গে তাঁর একটি “চমৎকার ভার্চুয়াল বৈঠক” হয়েছে। এই আলোচনার সূত্রপাত হয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের দুই দিনের ভারত সফরের প্রেক্ষিতে, যাঁর সঙ্গে রয়েছেন ১০০-রও বেশি ব্রিটিশ ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধির একটি উচ্চপর্যায়ের দল।
মন্ত্রী এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, “বিপি-এর সিইও মারি অকিনক্লস এবং বিপি ইন্ডিয়ার প্রধান কার্তিক দুবের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। মারি বর্তমানে মুম্বইয়ে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে।”
মন্ত্রী জানান, বিপি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের শক্তি খাতে বিস্তৃতভাবে যুক্ত রয়েছে এবং বর্তমানে তারা ওপেন অ্যাক্রেজ লাইসেন্সিং নীতি রাউন্ড-১০-এর আওতায় নতুন ব্লক অন্বেষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় পাবলিক সেক্টর সংস্থাগুলিও বিপি-র সঙ্গে যৌথভাবে মুম্বই হাই অয়েল ফিল্ডের আধুনিকীকরণে কাজ করছে। এছাড়াও খুচরো জ্বালানি বিক্রি, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কমপ্রেসড বায়োগ্যাস প্রকল্পেও দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগ চলছে — যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের শক্তি নিরাপত্তা বৃদ্ধির মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর সেপ্টেম্বরে বিপি-র সম্পূর্ণ বোর্ডের নেতৃত্বে অচিনক্লস ভারতে এসেছিলেন। সংস্থার সাম্প্রতিকতম এনাৰ্জি আউটলুক অনুযায়ী, ২০৫০ সাল পর্যন্ত ভারতের তেলের চাহিদা বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে পূর্বাভাস, কারণ ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বের শক্তি বাজারে ভারতের অংশ ৭ শতাংশ, যা ২০৫০ সালের মধ্যে বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছাবে।
ভারতের নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, “ভারত ইতিমধ্যেই হাইড্রোজেন যুগে প্রবেশ করেছে। দেশের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করা, যা বৈশ্বিক বাজারের ১০ শতাংশ দখল করবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৩.৫ ডলার প্রতি কেজি দামে বিক্রি হওয়া সবুজ হাইড্রোজেনের দাম ৩ ডলারের নিচে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশের সবুজ জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।
শেষে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত একটি বিশ্বস্ত হাইড্রোজেন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে— যা ভবিষ্যতের উন্নয়ন, রপ্তানি ও পরিবেশবান্ধব শক্তির ভবিষ্যৎকে সুনিশ্চিত করবে।”

