ভারতজুড়ে টানা বর্ষণের পূর্বাভাস, মারাঠওয়াড়ায় জলবন্দি দশা; সতর্ক রয়েছে প্রশাসন

নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর: ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ওড়িশা ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওড়িশায় ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি হতে পারে, এবং ছত্তিশগড়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বরের দিকে উত্তর ও সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ গঠিত হতে পারে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাবে বিদর্ভ, মধ্য মহারাষ্ট্র, কনকন ও গোয়া, মারাঠওয়াড়া, উপকূল অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার একাধিক অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। ২৫ সেপ্টেম্বর বিদর্ভে, ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্য মহারাষ্ট্র, কনকন ও গোয়ায় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর মারাঠওয়াড়ায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত ২৪ ঘণ্টায় ওড়িশার কিছু অঞ্চলে চরম ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও ত্রিপুরার একাধিক এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যান্য যে রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মধ্য মহারাষ্ট্র, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং উপকূল কর্ণাটক। আবহাওয়ার এমন চিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে। লাতুর, ধরাশিব ও হিঙ্গোলি জেলার একাধিক এলাকায় টানা তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে জলবন্দি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লাতুরের পারান্দা তালুকের কাপিলাপুরি গ্রামে জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একটি পরিবারের ৯ জন সদস্য (যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে) আটকে পড়েন, এবং তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এছাড়াও ভাইজাপুরের পঞ্চশীল নগর এলাকায় একাধিক ঘরে জল ঢুকে পড়েছে, বহু মানুষ গৃহছাড়া হয়েছেন। স্থানীয় বিধায়ক রমেশ বোর্নারে এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পুর প্রশাসনকে অবিলম্বে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রাথমিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের কাজ জোরকদমে চলছে। এলাকায় খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

এই মুহূর্তে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলি কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে উদ্ধার ও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবহাওয়া প্রধানত পরিষ্কার থাকবে বলে জানা গেছে। এসময়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। ২৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির আকাশ আংশিক মেঘলা হতে পারে এবং বাতাসের দিক পূর্বমুখী হবে। সামগ্রিকভাবে, দেশজুড়ে বৃষ্টির পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহজুড়ে উদ্বেগজনক রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, বিশেষ করে জলস্তর বেড়ে যাওয়া ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে নিচু এলাকাগুলিতে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রতের আবহাওয়া দফতর আজ জানিয়েছে, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে আজ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিহার, উপকূল অন্ধ্রপ্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা ও বিদর্ভ অঞ্চলেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

আবহাওয়া দফতর আরও জানায়, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, রায়লসীমা, পূর্ব রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়ার লাতুর, ধরাশিব ও হিঙ্গোলি জেলায় গত তিনদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পারান্দা তালুকার কাপিলাপুরিতে জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় একটি পরিবারের ৯ জন সদস্যকে (যার মধ্যে একজন শিশু রয়েছে) জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার করেছে।

ভাইজাপুরের পঞ্চশীল নগর এলাকায় একাধিক ঘরে জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক রমেশ বোর্নারে। তিনি পুর প্রশাসনকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

জলবাহিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পঞ্চনামা করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্য ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং প্রাথমিক চাহিদা পূরণে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ফলে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলি।