আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের চিহ্নিত করা, আটক করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য রাজ্যের ৮ জেলায় স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) গঠন করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার / ডেপুটি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক।
মোট ১২৯ জন পুলিশ কর্মী এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনে এই স্পেশাল টাস্কফোর্স বিএসএফ-র সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ করে থাকে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার আনা একটি দৃষ্টি আকর্ষনী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ৮ জেলায় স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করা ছাড়াও রাজ্যন্তরীয় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল সন্ত্রাসী, মাদক পাচারকারী, দেশ বিরোধী শক্তি, চরমপন্থী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ কার্যকলাপ রোধ করা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশে উদ্ভুত অভূতপূর্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে রাজ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট এজেন্সির শীর্ষ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। আমাদের রাজ্যে যেকোন প্রকার বিদেশী অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ভুত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সুসংহত কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সুবিশাল এবং জটিল সীমান্ত অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া থাকা সত্বেও কিছু কিছু জায়গা ভৌগোলিক কারণে এখনও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিদ্র করা যাচ্ছে না যা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে কেন্দ্রীয় সরকারের গোচরে নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং কোনভাবেই যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়সাধন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে নিয়মিত বৈঠক করে ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের রাজ্য এবং জনগণের নিরাপত্তা রাজ্য সরকারের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভুয়া ডকুমেন্ট প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় এবং যথোপযুক্ত পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের হার নিম্নগামী। রেল স্টেশন, এয়ারপোর্ট এবং বাস স্ট্যান্ডগুলিতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন মেনে অনুপ্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেবেনা। এব্যাপারে কোন আপোষ করা হবেনা।

