নয়াদিল্লি/কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর — মহালয়ার পবিত্র উপলক্ষে রবিবার দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহালয়া দিয়ে শুরু হল দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা, দেবীপক্ষের আগমন বার্তা নিয়ে বাংলাসহ গোটা দেশ এখন উৎসবমুখর।
এক্স -এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “আপনাদের সবাইকে শুভ মহালয়া। দুর্গাপুজোর পবিত্র দিনগুলি এগিয়ে আসছে, আমাদের জীবন হোক আলোকিত ও অর্থবহ। মা দুর্গার আশীর্বাদে সকলের জীবনে আসুক অটুট শক্তি, দীর্ঘস্থায়ী আনন্দ ও সুস্বাস্থ্য।”
মহালয়া শ্রাদ্ধ বা পিতৃপক্ষের সমাপ্তি সূচক একটি দিন। ১৬ দিনের এই সময়কালে হিন্দুরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয় দেবীপক্ষ, যা শুভ শক্তির জয় ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মহালয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। তিনি লেখেন, “জাগো দুর্গা, জাগো দশভুজা। তান, আগমনী, আহ্বানের এই পবিত্র দিনে সবাইকে জানাই আন্তরিক মহালয়ার শুভেচ্ছা। এই উপলক্ষে আমার লেখা ও সুর করা নতুন একটি পুজোর গান আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি।”
পশ্চিমবঙ্গে মহালয়া মানেই ভোররাতে বেজে ওঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ — দেবীর বন্দনায় ভরপুর স্তোত্র, মন্ত্রপাঠ ও সংগীতের অনবদ্য সমন্বয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির মনে গেঁথে আছে এই অনুষ্ঠান।
এদিন হাজার হাজার ভক্ত হুগলি নদী ও অন্যান্য জলাশয়ের ঘাটে তর্পণ করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন। মহালয়ার দিনটির আরেকটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কুমোরদের কাছে। এদিন তারা ‘চক্ষুদান’ নামক আচার অনুযায়ী প্রতিমায় দেবীর চোখ আঁকা সম্পন্ন করেন।
মহালয়া পেরোতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যায় পূজোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি, প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তোড়জোড়ে এখন তুমুল ব্যস্ত বাঙালি সমাজ। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের অন্যান্য প্রান্তেও দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা নিয়ে এই দিনটি উদযাপিত হয় পূর্ণ শ্রদ্ধা ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে।

