জিবিপি হাসপাতালে বাংলাদেশের এক কিশোরের হৃদরোগের সফল অস্ত্রোপচার

আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে কার্ডিও থোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি (সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর) ডিপার্টমেন্টে চালুর পর থেকে হৃদরোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একের পর সফল অস্ত্রোপচারে মাধ্যমে রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর এই সাফল্যের নজির এবং সুনামে আকৃষ্ট হয়ে রাজ্যের হৃদরোগীদের পাশাপাশি উত্তরপূর্বাঞ্চল সহ পার্শবর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকেও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা রাজ্যে এসে জিবিশি হাসপাতালে সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হবার নজির সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশের হবিগঞ্জের ১৩ বৎসর বয়সী এক নাবালকের হৃদপিন্ডে জিবিপি হাসপাতালে সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ সফল অস্ত্রোপচার করেন। এই নাবালকটির জনন্মগত হৃদরোগ ছিল এবং হার্টে ফুটো ছিল। তার বাঁদিকের রক্তের সঙ্গে ডান দিকের রক্ত মিশে যাচ্ছিল। গত ৬ আগস্ট ২০২৫ নাবালকটি তার বাড়ির লোকদের সাথে অসুস্থতা নিয়ে জিবিপি হাসপাতালে সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টের ওপিডিতে আসে। তার বাড়ির লোকরা জানান যে তাকে বাংলাদেশের সিলেট মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা সহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় দু’তিন বছর ধরে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসকরা তার হার্টের অস্ত্রোপচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার জন্য ৮ থেকে ৯ লক্ষ টাকা খরচ হবে বলে জানান। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার বাড়ির লোকেরা তাকে হৃদরোগের অস্ত্রোপচার করাতে পারেনি। তাই তার বাড়ির লোকেরা তাকে নিয়ে রাজ্যের আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে কার্ডিও ঘোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি (সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর) ডিপার্টমেন্টে চলে আসে।

জিবিপি হাসপাতালে সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকলণ তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখতে পায় যে তার হার্টের দুই প্রকোষ্ঠের মধ্যে বড় (৩১ এমএম) ছিদ্র রয়েছে। তাছাড়া তার ফুসফুসে রক্তনালীর বাঘ ছোট ছিল।

নাবালকটি যতই বড় হচ্ছিল ততই তার নানা ধরনের শারীরিক অসুবিধা দেখা দিচ্ছিল। তখন জিবিপি হাসপাতালের সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ কনক নারায়ণ ভট্টাচার্য নাবালকটির বাড়ির লোকেদেরকে আশ্বাস দেন যে জিবিপি হাসপাতালেই ন্যূনতম খরচের মধ্যে তার অস্ত্রোপচার করা যাবে। সেই মতো নাবালকটির বাড়ির লোকেদের সমস্ত চিন্তা ভাবনার অবসান করে অবশেষে গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তাকে জিবিপি হাসপাতালে সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টে ভর্তি করা হয়। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জিবিলি হাসপাতালের সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ কনক নারায়ণ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি টিম নাবালকটির ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন। তাতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা। জিবিপি হাসপাতালের উক্ত ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সার্জিক্যাল টিম সফলভাবে ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে পেরিকার্ডিয়াম ব্যবহার করে তার হার্টের বড় ছিদ্র বন্ধ করা হয় এবং ছোট হয়ে যাওয়া ‘পালমোনারি’ ভাঘটি মেরামত করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর নাবালকটি সুস্থ হয়ে উঠে এবং কিছুদিন ডিপার্টমেন্টের ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অবশেষে সে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী এক মাস প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার জিবিপি হাসপাতালে এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরকে চেকআপ করানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় রোগীর বাড়ির লোক খুবই খুশি হন এবং চিকিৎসকদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উক্ত অস্ত্রোপচারে ডাঃ কনক নারায়ণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ছিলেন ডাঃ মণিময় দেববর্মী, ডাঃ সুরজিৎ পাল ক্রিটিকাল কেয়ার), ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট সুদীপ্ত মণ্ডল, ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট রতন মণ্ডল, জয়দীপ চক্রবর্তী, অভিজিৎ রায়, পারফিউশনিস্ট সুজন সাহ, সৌরভ ত্রিপুরা, ওটি নার্স মৌসুমী দেবনাথ, অন্নবাহাদুর জমাতিয়া, সৌরভ শীল ও অর্পিতা সাহা।