১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নিকট দারস্থ প্রদেশ কংগ্রেস

আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর: শিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া ২২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া, সমস্ত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ সহ ১১ দফা দাবিতে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাঁচজনের এক প্রতিনিধি দল আজ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছে।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, সাথে জবরদখল হয়ে যায়। এমনকি আগরতলাতে রাজ্যের প্রধান কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি আক্রান্ত, দলের নেতা কর্মীদের উপর আক্রমণের সাথে সাথে বাড়িঘরে আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, কর্মক্ষেত্রে আক্রমণ, অনুরূপ আক্রমণ বিজেপি দলগুলির উপরও সংঘটিত হয়। এতে বহু নেতাকর্মীর প্রাণহানি, পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এমনকি শাসক দলের প্রথম সারির নেতারা সশস্ত্র অবস্থায় আগরতলা শহরে মিছিল করে পুলিশের সামনেই সংবাদ মাধ্যমের অফিসে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুরের সাথে গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, বিরোধী দলের সদর কার্যালয়ে হামলা গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পরও আক্রমণকারী শাসক দলের প্রথম সারির নেতারা রাজ্য কার্যালয়ে বসে বুক ফুলিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সগৌরবে ঘোষণা “এ তো সেভ ট্রেলারি পিকচার আভি বাকি হে’। সরকার ও শাসক দলের আশ্রয়- প্রশ্রয়ে নেশা বাণিজ্যের প্রসার, শিশুকন্যা থেকে বিভিন্ন বয়সী মহিলাদের উপর যৌন বৃদ্ধি, নিগো বাণিজ্য, জমি জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম, সরকারি কাজ সহ সমস্ত ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য, ঢালাও দুর্নীতি সাথে সরকারের প্রধানের নেতৃত্বে একটার পর একটা প্রতিশ্রুতির খেলাপ, সব ক্ষেত্রেই প্রতারণা।

তাঁর কথায়, বাইক বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার সহ ভোটাধিকার হরণ সহ রাজ্যজুড়েই এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করে। এতে সাংবাদিক বন্ধুরাও এসব খবর প্রকাশ করার চেষ্টা করলে পর তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। কোন এক অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন করে আপনাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে আসীন করে। আপনার পূর্ব পরিচয় রাজ্যবাসীর জানা থাকার ফলে রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির প্রকাশ ঘটেছিল। আমরাও কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কার্যক্ষেত্রেও কিছু কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। কিন্তু দিন যতই এগিয়েছে ততই ভিন্ন ভিন্ন রূপে নেশা কারবারি, মানব পাচারকারী, জমি মাফিয়া, নানা ক্ষেত্রের সমাজদ্রোহীরা প্রাক্তন ও শাসক দলের প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীদের, একাংশ মন্ত্রী-বিধায়কদের পূর্বেকার কিছু কায়দা কানুন পরিবর্তন করে রাজ্যজুড়েই আবারো অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করে চলছে। দলেটআভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের ফলশ্রুতিতে একাধিক খুন ও সংঘর্ষের ঘটনা তো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি জাঁকিয়ে বসার সাথে সাথে অপরাধমূলক অনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যটা বারুদের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দলমতের উর্ধে উঠে শুধু পুলিশকে ফ্রিহ্যান্ড দেওয়া বা “জিরো টলারেন্স” এর কথা বলে দায় সেরে না নিয়ে চিহ্নিত সমস্ত সমাজদ্রোহীদের ও তথাকথিত প্রভাবশালী নেশা কারবারি চাইদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় রেখে নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইন মোতাবেক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার সাথে এই সময়ে নামে-বেনামে তাদের অর্জিত সম্পত্তির উৎস বের করে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। শিশুকন্যা সহ নারী ধর্ষণকারী ও যৌন নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় রেখে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার।

পাশাপাশি, ২০১৮ সালের পরবর্তী সময় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হত্যা, পুলিশ ও জেল হাজতে হত্যা এবং কুমারঘাট রথ কাণ্ডে হত্যার ঘটনাগুলি তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করা সহ প্রকৃত দোষীদের আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাই আজ ১১ দফা দাবিতে সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।

তাঁদের দাবিগুলো হল, রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া ২২ শতাংশ ডিএ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ষোড়শ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট কার্যকরী করার পূর্বেই তা মিটিয়ে দেওয়ার, সমস্ত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করতে হবে, শিক্ষকসহ রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তরে সকল শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণ করতে হবে,
প্রতি বছর স্কুলে বার্ষিক পাঠ্যক্রম শুরুর ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে হবে সাথে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশ করা হোক।

তাছাড়া, রাজ্যের ছোট মাঝারি রাবার উৎপাদকদের ভর্তুকিতে সার প্রদান ১০ শতাংশ ভর্তুকিতে স্মোক হাউস নির্মাণ ও সমস্ত রাবার উৎপাদকের বীমা প্রকল্পে আনা, রাজ্যে কৃষি পণ্য উৎপাদন বিশেষত ধান গম ভুট্টা উৎপাদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সরকারকে তা কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে হবে। রাজ্যের সর্বত্র নষ্ট ও অকেজো সেচ প্রকল্পগুলি দ্রুত মেরামতি করে চাষের উপযুক্ত করে তোলা সহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন।