নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর : মূলত, সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দিতেই কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। দেশের আম জনতার নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারের বহু পণ্যে জিএসটি কমানো হয়েছে। বুধবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৬তম গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) কাউন্সিলের বৈঠকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সভাপতিত্বে হওয়া এই বৈঠকে ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ এই দুই স্তরের নতুন কর কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নতুন জিএসটি কাঠামো কার্যকর হবে। বর্তমানে প্রচলিত চারটি জিএসটি স্ল্যাবকে সরলীকরণ করে দুটি স্তরে নিয়ে আসার জন্যই এই পদক্ষেপ। এতে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের করভার হ্রাস পাবে বলেই কেন্দ্রের আশা।
বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান, এই কর কাঠামোর রূপান্তরের ব্যাপারে সব রাজ্য একমত হয়েছে এবং এটি একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, নতুন কর কাঠামো চালু হলে রাজ্যগুলোর সম্মিলিত রাজস্ব ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৭,৭০০ কোটি টাকা। কর্পোরেট ছাড়ের পাশাপাশি রাজ্যের রাজস্বে ঘাটতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী সুরেশ খন্না জানিয়েছেন, ক্ষতিকর বা ‘সিন’ গুডসের উপর ৪০ শতাংশ কর হার বহাল রাখা হলেও, অতিরিক্ত লেভি বা কর আরোপের বিষয়ে এখনো কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন জিএসটি সংস্কারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী পি কেশব বলেন, এই সংস্কার গরীব মানুষের স্বার্থে। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইস্পাত, সিমেন্ট ও টেক্সটাইল খাতে বড় উপকার মিলবে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রের প্রস্তাব সমর্থন করছে। ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ এই দুই স্তরের জিএসটি কাঠামোর পক্ষেই অসমের অবস্থান। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রস্তাবিত সংস্কারের ফলে রাজ্যের রাজস্ব ১০-১২ শতাংশ কমে যেতে পারে। পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর রাজ্যের অর্থনীতি বিপর্যস্ত এবং এই অবস্থায় রাজস্ব সুরক্ষা মেকানিজম চালু করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। কর্ণাটক, পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য রাজস্ব সুরক্ষা ও ক্ষতির হিসেব পরিষ্কার করে জানানোর দাবি জানিয়েছে।
জিএসটি হার হ্রাসের ফলে রাজস্ব ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৩,০০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ‘সিন ও বিলাসবহুল’ পণ্যের থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব হতে পারে ৪৫,০০০ কোটি টাকা। সংশোধিত হার অনুযায়ী, বেশ কিছু পণ্য ও পরিষেবা বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও বিমা খাতে কর হ্রাস পাবে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য করজটিলতা হ্রাস করা হবে। কর ব্যবস্থার সহজীকরণ হবে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই জিএসটি সংস্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া “দীপাবলির উপহার” ঘোষণার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনবে বলে দাবি করা হয়েছে।

