সারা দেশের মধ্যে ত্রিপুরা জাতি জনজাতির মিশ্র সংস্কৃতির একটা পীঠস্থান: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৩ আগস্ট: জনজাতি অংশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে খুবই আন্তরিক রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার। সারা দেশের মধ্যে ত্রিপুরা এমন একটা রাজ্য যেটা জাতি জনজাতির মিশ্র সংস্কৃতির একটা পীঠস্থান। গতকাল রাতে দক্ষিণ জেলার শান্তির বাজার মহকুমার অধীন মনু বাজারে ব্রু (রিয়াং) জনজাতিদের ঐতিহ্যবাহী ২৪তম রাজ্যভিত্তিক সংগ্ৰংমা পূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

বীরচন্দ্র মনুর ব্রু সংগ্ৰংমা মথহ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী এই পূজা উপলক্ষে ব্রু (রিয়াং) জনজাতিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা।

তিনি বলেন, আজ সচিবালয়ে একটা ফাইল আমার টেবিলে আসে। সংগ্ৰংমা পূজা উপলক্ষে ছুটির জন্য এই ফাইল পেশ করা হয়। কিন্তু ফাইলে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকায় একটা সংশয় দেখা দেয়। তাই যথাযথভাবে ফাইল পেশ করার পর এই বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। রিয়াং ও ব্রু রিয়াং জনগোষ্ঠীর ভগবান হচ্ছেন দেবী সংগ্ৰংমা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় একটা কথা বলেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস ও সবকা বিশ্বাস। রাজ্যের ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারও সেই দিশায় কাজ করছে। রাজ্যের ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে এই সরকার। আমরা চাই সবার উন্নতি।

সারা দেশের মধ্যে ত্রিপুরা জাতি জনজাতির মিশ্র সংস্কৃতির একটা পীঠস্থান। আমাদের মধ্যে যে একটা অন্তরঙ্গতা বোধ সেটা যাতে কোনভাবেই বিনষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আমরা সেই দিশায় কাজ করছি। আমাদের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন যাতে আরো অটুট হয় সেই চেষ্টা করতে হবে। দাবি থাকবে, আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে সেগুলির সমাধান করতে হবে। আমরা চাই সবার মুখে যাতে হাসি থাকে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন ধরে আমরা দেখেছি পূর্বের যে সরকার ছিল তারা কিভাবে সরকার পরিচালনা করেছে। জনজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে সরকারে থাকার চেষ্টা করেছে। আর আমাদের সরকার কাউকে আলাদা করে দেখে না। কারণ সবার বিকাশই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সবাইকে নিয়ে একসাথে চলা আমাদের উদ্দেশ্য। আজ সংগ্ৰংমা পূজা উপলক্ষে সবাই এখানে সমবেত হয়েছেন। যে গোষ্ঠীর যেকোন পূজা হোক না কেন সেটাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার নজরে দেখে আমাদের সরকার।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ইতিহাস আমাদের জানতে হবে। আমাদের উৎপত্তি, কৃষ্টি সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে জানা থাকতে হবে। আর সনাতন ধর্মকে ভুলে গেলে চলবে না। ভারতবর্ষে এত বিদেশী আক্রমনের পরও এই সনাতনী ধর্মের উপর ভিত্তি করে ভারতকে নষ্ট করতে পারে নি কেউ। ভারত সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী। যতই বিনষ্ট করার চেষ্টা করুক, ভারত ভারতই থাকবে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমাদের ভারত। ২০১৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতকে এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনজাতি অংশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন তিনি। ভগবান বীরসা মুন্ডার প্রতি সম্মান জানিয়ে জনজাতীয় গৌরব দিবস চালু করেছেন তিনি। জনজাতি অংশের মহিলা প্রতিনিধি দ্রৌপদী মুর্মুকে দেশের রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সদস্য যিষ্ণু দেববর্মাকে তেলেঙ্গানার মতো বড় রাজ্যের রাজ্যপাল করা হয়েছে। আর সেটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কারণে।

উদ্বোধকের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনজাতিদের কিভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে হয় সেটা কাজের মাধ্যমে করে দেখায় ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই জনজাতিদের উন্নয়ন করতে চায় এই সরকার। ত্রিপুরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার আসার পর রাজ্যের বিশিষ্ট ৭ জন জনজাতি ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়েছে। ব্রু পরিবারগুলিকে যথাযথভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথমে তাদের ৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেটা বৃদ্ধি করে ৮০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ১২টি জায়গায় তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে ব্রু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন বিষয়ে অবগত হয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবী বিপিন দেববর্মা, এডিসির নির্বাহী সদস্যা ডলি রিয়াং, এডিসি সদস্য সঞ্জিত রিয়াং, রিয়াং কমিউনিটির রাই বিদ্যুৎ জয় রিয়াং, কংগ্রাম রিয়াং সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।