নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট : উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী বি. সুদর্শন রেড্ডি তাঁর প্রতিপক্ষ এনডিএ মনোনীত সিপি রাধাকৃষ্ণনকে এক “প্রকৃত আরএসএস মানুষ” বলে অভিহিত করে জানান, তিনি ওই মতাদর্শে বিশ্বাস করেন না। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে রেড্ডি বলেন, এই নির্বাচন কেবল দুই প্রার্থীর মধ্যেকার লড়াই নয়, বরং দুটি ভিন্ন মতাদর্শের মধ্যে একটি স্পষ্ট সংঘর্ষ।
রেড্ডির কথায়, “এটি শুধুমাত্র আমার ও রাধাকৃষ্ণন জির মধ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটি এমন দুটি মতাদর্শের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যার মধ্যে একদিকে রয়েছেন একজন প্রকৃত আরএসএস মানুষ। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, আমি সেই মতাদর্শে বিশ্বাস করি না। আমি মূলত একজন উদারনৈতিক, সংবিধানপ্রধান ও গণতান্ত্রিক মানুষ।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে রেড্ডি স্পষ্টভাবে বিজেপি ও আরএসএস-এর রাজনৈতিক দর্শনের বিপরীতে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রার্থীপদে সম্মতি দেওয়ার পূর্বে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি ভারত জোটের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ এসেছিল ভারত জোটের তরফ থেকে। যদিও দলগতভাবে বলতে গেলে, কংগ্রেসই প্রথম প্রস্তাব দেয়। আমি তখন বলেছিলাম, যদি ভারত জোট আমাকে গ্রহণ করে, তবেই আমি প্রার্থী হব।”
রেড্ডি তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র এখনও আছে, তবে তা চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, “একসময় আমরা বলতাম অর্থনীতিতে ঘাটতি আছে, আজ বলতে হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্রেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আমি এটা বলছি না যে ভারত আর গণতান্ত্রিক দেশ নয়… আমরা এখনও সংবিধানিক গণতন্ত্র, তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, ৭৯ বছর বয়সী বি. সুদর্শন রেড্ডি একজন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, যিনি ২০১১ সালে অবসর নেন। তিনি তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ও আইনি মহলে সুপরিচিত। অন্যদিকে, ৬৮ বছর বয়সী সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন আরএসএস কর্মী হিসেবে। তিনি ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র ও অতিরিক্ত দায়িত্বে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে, নির্বাচন কমিশন ৯ই সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে। এনডিএ রাধাকৃষ্ণনকে প্রার্থী করে, যার জবাবে বিরোধী জোট ভারত মনোনীত করে বি. সুদর্শন রেড্ডিকে।
এই নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়ে দুই বিপরীতমুখী মতাদর্শের মুখোমুখি সংঘর্ষ স্পষ্ট হচ্ছে।

