ত্রিপুরার জনজাতিদের মধ্যে বিভেদ নয়, অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রদ্যোতের

আগরতলা, ২১ আগস্ট : উত্তর-পূর্বাঞ্চলেরই আরেক রাজ্য নাগাল্যান্ডের উদাহরণ টেনে ত্রিপুরার জনজাতিদের একতা ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আবারও মুখ খুললেন তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা। আজ সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, নাগাল্যান্ডের নাগা সম্প্রদায় গত ২৫ বছর ধরে একত্রিত হয়ে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, তাঁরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধা পেতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু ত্রিপুরায় এখনও জনজাতিরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত এবং একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

প্রদ্যোত বলেন, আমরা যদি নিজেদের মধ্যে লড়াই বন্ধ করে একজোট হই, তাহলে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে আমাদের দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরতে পারি। কারণ, জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন কোনও একক দলের এজেন্ডা নয়। এটি গোটা জনজাতি গোষ্ঠীর প্রাপ্য।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের সংকল্প পত্রে জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এডিসি এলাকায় জমি হস্তান্তর বিল পাস, সরাসরি অর্থ বরাদ্দ, সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনী বাস্তবায়ন প্রভৃতি। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে জনজাতি সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে উপকৃত হত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজও সেই প্রতিশ্রুতিগুলি কার্যকর হয়নি। তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারকে সংকল্প পত্র অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এই বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান প্রদ্যোত। তাঁর মতে, এই দাবি ও উদ্যোগে বিজেপির জনজাতি মোর্চার সদস্যরাও সহমত পোষণ করবেন। তাই শীঘ্রই সকল রাজনৈতিক দলের জনজাতি নেতৃত্বকে একত্রিত করে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি যৌথ চিঠি পাঠানোর প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থের বিষয় নয়, বরং জনজাতি জনগণের মৌলিক অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্ন। তাই বিভেদ নয়, একতা হোক আমাদের হাতিয়ার।

জনজাতি জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে প্রদ্যোত দেববর্মার এই আহ্বান নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দলে ভাঙ্গন ঠেকাতে মরিয়া প্রদ্যোত এখন জনজাতি বঞ্চনার তাস খেলবেন। একদিকে, শাসক জোট শরিক বিজেপির উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুশিয়ারী দিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, নিজ দলে বিদ্রোহীদের দমাতে জনজাতি অংশের জনগণের কাছে ওই নেতাদের নেতিবাচক মানসিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই উদ্যোগ ত্রিপুরার জনজাতি রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।