মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সুপ্রিম ধাক্কা, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় খারিজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুনর্বিবেচনার আবেদন

নয়াদিল্লি, ১৯ আগস্ট : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুনর্বিবেচনার আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের সেই ঐতিহাসিক রায় বহাল থাকল। ওই রায়ে ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই দুর্নীতিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণভাবে দায়ী। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই বিপর্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সম্পূর্ণভাবে দায়ী। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী, যারা দোষী এবং নির্দোষ, উভয়েরই জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। তাই আদালতের মন্তব্য একেবারে যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ বলেছে, যদিও নির্দোষদের নিয়োগ বাতিল হওয়ায় কষ্ট ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তবুও নির্বাচন প্রক্রিয়ার পবিত্রতা রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছিল হাইকোর্ট। ফলে ২৫,৭৫৩ জন অবৈধভাবে নিযুক্ত প্রার্থীকে চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছিল এবং ১২ শতাংশ সুদসহ তাদের বেতন ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন তোলে। বিজেপি ও তৃণমূল মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকার আরও চাপে পড়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি আমি ফিরিয়ে দেব। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ভায়াপাম কাণ্ডে এত মৃত্যু, এখনও বিচার হয়নি। নিট-এ অভিযোগ উঠলেও পরীক্ষা বাতিল হয়নি। তাহলে বাংলাকে কেন নিশানা করা হচ্ছে? কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, আপনারা বাংলা, আপনারা প্রতিভা, আপনাদের ভয় পাচ্ছে ওঁরা।

মে মাস নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। মোট ৪৪,২০৩টি শূন্যপদে নিয়োগ হবে। বয়সের ছাড় দেওয়া হবে প্রাক্তন প্রার্থীদের জন্য। কিন্তু বহু প্রাক্তন প্রার্থী ফের পরীক্ষায় বসার বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবির ভাষ্য, আমরা নতুন করে পরীক্ষা দেব না। আমাদের দাবি একটাই, আমাদের চাকরি ফেরত দিতে হবে। বিষয়টি এখন পুরোপুরি আইনি পথে। তবে রাজনৈতিক ময়দানে এই রায় বিরোধীদের হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র তুলে দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।