আগরতলা, ১৮ আগস্ট: কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ বলেছেন, কার্বন ক্রেডিট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে এবং একইসঙ্গে কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দিতে পারে। আজ মোহনপুরস্থিত স্বামী বিবেকানন্দ কলেজ প্রাঙ্গণে আগরতলার রোটারি ক্লাব অব অ্যাসপায়ারিং-এর উদ্যোগে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা রোপণের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সকলে মিলে কাজ করতে হবে। আধুনিকায়নের ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং দিন দিন বাড়ছে। আমরা যত আধুনিক হচ্ছি, ততই বাড়ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশ ধ্বংস করে, তবে মাটিতে এর উপস্থিতি কৃষির পক্ষে উপকারী। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের আরও বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি মানেই পৃথিবীর উষ্ণায়ন, আর বৃক্ষরোপণই পারে পৃথিবীকে শীতল রাখতে।
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে কার্বন ক্রেডিট বিক্রির চাহিদা ৩০ শতাংশ বাড়বে। কৃষকরা, সরকার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন একটি কার্বন ক্রেডিট মানে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে মাটিতে সঞ্চয় করা। টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, জৈব চাষ, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজনের মাধ্যমে কার্বন জমিয়ে তা বিক্রি করা সম্ভব। এর ফলে কৃষকরা যেমন পরিবেশ রক্ষা করবেন, তেমনি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও পাবেন। এটি কেবলমাত্র গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাবে না, কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক উন্নয়নের পথও সুগম করবে।” এদিন তিনি রোটারি ক্লাব অব অ্যাসপায়ারিং আগরতলার সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ কলেজের অধ্যক্ষ হরধান দেবনাথ, সমাজকর্মী কার্তিক আচার্য, রোটারি ক্লাব অব অ্যাসপায়ারিং আগরতলার সদস্যবৃন্দ ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

