জম্মু, ১৭ আগস্ট : জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে দু’টি পৃথক ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ও রবিবার রাতের মধ্যবর্তী সময়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রশাসন জানিয়েছে, কাঠুয়ার জোঢ় ঘাঁটি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং জঙ্গলটে এলাকায় ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুইজন।
ইউনিয়ন মন্ত্রী এবং জম্মু ও কাশ্মীরের উদমপুরের সাংসদ জিতেন্দ্র সিং এক্স-এ জানান, মেঘভাঙার ফলে একটি রেললাইন, জাতীয় সড়ক-৪৪ এবং একটি পুলিশ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “বেসামরিক প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “জোঢ় খাদ ও জুঠানা-সহ কাঠুয়ার একাধিক অংশে ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত।” মুখ্যমন্ত্রী আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সবরকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কাঠুয়ায় তাদের উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। সেনার ‘রাইজিং স্টার কর্পস’ এক্সে জানিয়েছে, “আমাদের বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারগুলিকে উদ্ধার করছে, খাদ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছে।”
অন্যদিকে, কাঠুয়া জেলা প্রশাসন ভারী বৃষ্টির কারণে সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে নদী, নালা, ঝর্ণা এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জেলা তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, “জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় হঠাৎ বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।” প্রশাসনের তরফে দুটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও জারি করা হয়েছে—০১৯২২-২৩৮৭৯৬ এবং ৯৮৫৮০৩৪১০০।
প্রশাসন আরও জানিয়েছে, উঝ নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে, একই সপ্তাহে কিশ্তওয়ার জেলার চিসোটি গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় ৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। মাছাইল মাতা মন্দিরে বাৎসরিক যাত্রার সময় এই বিপর্যয় ঘটে, যেখানে এখনও অন্তত ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই ধাক্কায় জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

