মুম্বই পৌরসভা নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য: মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে

মুম্বই, ৬ আগস্ট: মহারাষ্ট্রে ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ এখন মুম্বই পৌরসভা নির্বাচন, যার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের শাসক দল বিজেপি এবং তার সহযোগী দলগুলো – অজিত পাওয়ারের এনসিপি ও একনাথ শিন্ডের শিবসেনা – নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ ধাপে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ, কংগ্রেস এবং শারদ পাওয়ারের এনসিপি ও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করতে ব্যস্ত।

এদিকে, বিজেপি দলের পক্ষ থেকে একদিকে যেমন কেডার নির্মাণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা তাদের হারানো জনপ্রিয়তা ও ভোটার সংযোগ পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। বিজেপির লক্ষ্য ২০২৯ সালে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠন করা, এবং এর জন্য তারা এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিজেপি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ২৮৮ আসনের মধ্যে ১৩২টি আসন জিতে একটি শক্তিশালী জয় অর্জন করেছিল। এটি দলের জন্য একটি বিশাল সাফল্য, বিশেষ করে গত লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর। ২০১৯ সালে দলটি মাত্র ৯টি আসন জিতেছিল, যা বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল।

এখন বিজেপি দলের লক্ষ্য ২০২৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরও বড় একটি জয় লাভ করা। তবে এবারের লক্ষ্য এককভাবে সরকার গঠন করার। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আশা করছে যে, তারা এককভাবে ক্ষমতা দখল করতে পারবে এবং রাজ্য এবং কেন্দ্রে সরকারের নেতৃত্ব প্রদান করতে পারবে। দলের প্রধান লক্ষ্য হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা আরও জোরালোভাবে সামনে আনা, যা তাদের নিয়োগ নীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার, বিজেপি ৫০টিরও বেশি নেতা ও কর্মীকে দলের মধ্যে যুক্ত করেছে, যারা প্রধানত কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা থেকে আসেন। এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিজেপির রাজ্য প্রধান রবিশঙ্কর চওয়ান, যিনি একথা বলেন, “আমাদের দলের জন্য একচেটিয়া চিন্তা থাকতে হবে। আমাদের সরকার রাজ্য এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকলে, পরবর্তী লক্ষ্য হলো পৌরসভা নির্বাচন।”

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি ৫৬টি আসন পেয়েছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনে তারা মাত্র ২০টি আসন পেয়েছে। এর পরপরই দলটি থেকে একাধিক সিনিয়র নেতারা চলে গেছেন, এবং অনেকেই একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন।

শিবসেনার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যখন শাসক জোটের ‘অপারেশন টাইগার’ কৌশল সামনে এসেছে, যা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা গোষ্ঠীকে মাটির স্তর থেকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিত। যদিও দলের নেতারা জনসমক্ষে এসব বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলছেন না, তবে ভেতরের অশান্তি এবং দলত্যাগের ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এদিকে, উদ্ধব ঠাকরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি নতুন কৌশল নিতে চান। সূত্রে জানা গেছে, তিনি রাজ ঠাকরের মণীষী (এমএনএস) দলের সাথে একটি নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, “এমএনএসের সাথে জোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা পৌরসভা নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য কাজ শুরু করেছি।”

বিরোধী মহা বিকাশ আঘাতি জোটের অন্যতম প্রধান সদস্য কংগ্রেসও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে পড়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তার সহযোগী দলের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল আরও খারাপ হয়েছে। দলের নেতাদের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার প্রস্থান হয়েছে, যা কংগ্রেসের শক্তি দুর্বল করেছে।

তবে, কংগ্রেসের নেতৃত্ব এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শারদ পাওয়ারের এনসিপি এবং অন্যান্য সহযোগী দলের নেতাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, তারা সাবেক বিধায়ক বাবাজানি দুড়ানিকে দলের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা একটি প্রতীকী শক্তি হিসাবে কাজ করবে।

কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণভাবে আশাবাদী যে, এসব উচ্চ-পদস্থ নেতাদের যোগদান তাদের শক্তি পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে, কংগ্রেস আশা করছে যে তারা মহা বিকাশ আঘাতি জোটে পুনরায় প্রধান সদস্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

মুম্বই পৌরসভা নির্বাচন এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন একটি মোড় নিতে চলেছে। বিজেপি দলের কেডার নির্মাণ এবং হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি, শিবসেনা ও কংগ্রেস নিজেদের কৌশল পুনর্নির্মাণে ব্যস্ত।

উদ্ধব ঠাকরে তার দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, এবং রাজ ঠাকরের এমএনএস দলের সাথে নতুন জোট গঠনের ব্যাপারে খোলামেলা মনোভাব দেখাচ্ছেন। বিজেপির লক্ষ্য এককভাবে ক্ষমতা দখল করা, তবে বিরোধীরা এই প্রেক্ষাপটে নিজেদের পুনর্গঠন করতে এবং আগামী নির্বাচনের জন্য নতুন কৌশল নিয়ে আসতে চায়।

বিজেপি, শিবসেনা ও কংগ্রেসের মধ্যে এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আগামী দিনের রাজনীতিতে মহারাষ্ট্রের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।