নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট : জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলায় ‘অপারেশন নাগিনী’ নামে একটি তীব্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী এক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক। এই তিনদিন ব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর সমন্বয়ে।
চিনার কর্পসের তরফে জানানো হয়েছে, কুপওয়াড়ার কালারুস এলাকায় এই জঙ্গি ঘাঁটি লুকিয়ে রাখা ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, গুলি এবং অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘাঁটি থেকে জঙ্গিরা স্থানীয় ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালানোর ছক কষছিল বলেও প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ২০১৯-এ জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। সেই ঘটনার বর্ষপূর্তি ঘিরে উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের কিছু অঞ্চলকে রাখা হয়েছে বাড়তি নজরদারির আওতায়।
এই পরিস্থিতিতেই ‘অপারেশন নাগিনী’ চালিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল সেনা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানের সময়সীমা এবং তার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেনাবাহিনী আগেই সতর্ক করেছিল, ৩৭০ ধারা বিলোপের বার্ষিকীতে জঙ্গিরা নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার আখল দেবসর এলাকায় আরও একটি পৃথক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ৫ দিন ধরে চলছে তল্লাশি ও গুলি বিনিময়। এখনও পর্যন্ত একজন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই এলাকায় আরও জঙ্গিরা লুকিয়ে থাকতে পারে, যার ফলে অভিযান আপাতত স্থগিত নয়।
এই অভিযানের আগেই সেনা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ বাহিনী সীমান্ত এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়েছে। ৩০ জুলাই, জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ‘অপারেশন শিবশক্তি’-তে দু’জন অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিকে খতম করে সেনা। এর পাশাপাশি, ‘অপারেশন মহাদেব’-এ লস্কর-ই-তইবা-র শীর্ষ কমান্ডার সুলেমান-সহ আরও দু’জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে, যারা পহেলগাম হামলার অন্যতম মূলচক্রী ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন।
চিনার কর্পস এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই অভিযানগুলি প্রমাণ করে যে জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি এখনও উপত্যকায় অশান্তি ছড়াতে চাইছে। তবে সেনা, পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে যেভাবে কাজ করছে, তাতে এই জঙ্গি কার্যকলাপকে কার্যত শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘‘স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চালানো হবে।’’
সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি কার্যকলাপের ঝুঁকি রয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র সরকার ও সেনাবাহিনী এই নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। ‘অপারেশন নাগিনী’-র মতো সফল অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ভারতীয় সেনা জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি-মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

