মেঘালয়ে খাসি ও গারো পাহাড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী গ্রাম প্রধানদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ

শিলং, ২ আগস্ট : অসমে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের প্রেক্ষিতে, মেঘালয়ের খাসি পাহাড় স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ রাজ্যের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির প্রধানদেরকে সতর্ক থাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যেকোনো সন্দেহজনক সীমান্ত পারাপারের ঘটনা বা অবৈধ বসতি স্থাপন সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে জানাতে হবে। এই পদক্ষেপটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আদিবাসী জমির রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

খাসি পাহাড়ের জেলা পরিষদ বৃহস্পতিবার এক নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, “হিমা”, “ডর্বার শনং” এবং “ডর্বার রেইড”-এর সকল গ্রাম প্রধান এবং স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের অবৈধ বসতি স্থাপনের চেষ্টা বা সীমান্তের অবৈধ পারাপার ঘটলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এই পরামর্শটি এসেছে, যখন অসম সরকার নিজেদের সীমান্তে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এবং মেহমানদের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানগুলো বিশেষভাবে সীমান্তবর্তী এলাকার গর্ভবর্তী জনসংখ্যা এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে, যাদের কেউ কেউ সরকারের অনুমতি ছাড়াই বসতি স্থাপন করছে। মেঘালয়ে এমন প্রবাহ সামলাতে উক্ত জেলা পরিষদ গুরুত্ব দিয়ে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ এই ধরণের অনুপ্রবেশ মেঘালয়ের আদিবাসী জমির অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

এদিকে, গারো পাহাড় স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ মেঘালয়ের গারো পাহাড় অঞ্চলের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ২৯ জুলাই, জিএইচএডিসি অভিযান চালিয়ে একাধিক অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করেছে, যা সরকারি জমিতে নির্মিত ছিল। এই অভিযানটি পূর্ববর্তী ভূমি দখল উচ্ছেদ নোটিশের অবহেলা এবং অনুপস্থিতি সত্ত্বেও পরিচালিত হয়। জিএইচএডিসি-র দাবি, “আমরা এই ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। কোনো ধরনের অবৈধ দখল একেবারেই সহ্য করা হবে না।”

প্রসঙ্গত, মেঘালয়ের সীমান্ত এলাকায় বহিরাগতদের বসতি স্থাপন এবং দখল বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তের ওপর অবস্থিত গ্রামগুলিতে বহিরাগতদের প্রবাহ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে জমি হারানোর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাই, মেঘালয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ খাসি এবং গারো পাহাড়ে আদিবাসী জমির রক্ষায় সতর্কতা বাড়ানোর এবং অবৈধ বসতি রোধের জন্য সম্প্রদায়িক সমন্বয়কে জরুরি বলে ঘোষণা করেছে।

খাসি এবং গারো পাহাড়ের অঞ্চলে আদিবাসী ভূমির অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী সম্প্রদায়িক সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাগুলিতে ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো রয়েছে, যেখানে স্থানীয় নেতৃত্ব যেমন “হিমা”, “ডর্বার শনং” এবং “ডর্বার রেইড” ভূমিকা পালন করে। এইসব স্থানীয় সংস্থাগুলিকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তাদের প্রচেষ্টা মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, মেঘালয়ের এই সীমান্ত এলাকায় যেহেতু কিছু অস্থিরতা রয়েছে, তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং জাতিগত গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সহযোগিতা খুবই প্রয়োজনীয়। এমনকি, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এমন দাবি উঠে এসেছে যে সীমান্তের নিকটবর্তী কিছু গ্রামেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, বাইরে থেকে লোকেরা তাদের জমিতে অনুপ্রবেশ করছে, এবং তাদের বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছে। এই ধরণের প্রবাহ, যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তা ভবিষ্যতে রাজ্যের আঞ্চলিক সুরক্ষা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

মেঘালয় সরকারের তরফ থেকে খাসি ও গারো পাহাড়ের জেলার আধিকারিকরা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রেখে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মেঘালয়ের সীমান্ত এলাকায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো হবে এবং বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, জমির অধিকার সংরক্ষণ, এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এই পদক্ষেপগুলির মূল উদ্দেশ্য।

মেঘালয়ের আদিবাসী জনগণের ভূমি রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় ও রাজ্য সরকারের একযোগিতায় কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হবে।